জি টিভির প্রতিষ্ঠাতা ও বিজেপি ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন সাংসদ সুভাষ চন্দ্রের ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মাত্র সাড়ে ৬ কোটি টাকায় মিটিয়ে ফেলার ঘটনায় কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের পর মুখ খুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। বৃহস্পতিবার এই প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী (National Company Law Tribunal - NCLT) এনসিএলটি-কে ‘নেতা কোম্পানি লুট ট্রাইব্যুনাল’ বলে অভিহিত কররে
কংগ্রেস এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছে, ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল-এর এই অনুমোদন ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড, ২০১৬-কে ‘সম্পূর্ণ উপহাসের পাত্র’ বানিয়েছে। সরকারের কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেস জানিয়েছে, এটা কোনও সাময়িক ছাড় নয় বরং টনসার (মাথা মোড়ানো)।
বৃহস্পতিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘একজন কৃষক ৫০,০০০ টাকা না দিলে তার জমি নিলামে তোলা হয়। একজন বেতনভোগী ব্যক্তি একটি ইএমআই-ও দিতে না পারলে তার বাড়িতে ব্যাংকের গুন্ডারা হাজির হয়। গরিব ছাত্রছাত্রীরা তাদের পড়াশোনার জন্য ঋণও পায় না। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ‘বন্ধুদের’ জন্য ব্যাংকের টাকা ব্যক্তিগত সম্পত্তি—যত খুশি তোলো, যখন খুশি শোধ করো। মোদি সরকার দেশে দুটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে—একটি মুষ্টিমেয় বিলিয়নিয়ারদের জন্য, অন্যটি বাকি সবার জন্য।’
নামমাত্র টাকায় সুভাষ চন্দ্রের বড়ো অঙ্কের ঋণের নিস্পত্তির বিষয়ে মুখ খুলেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, মনমোহন সিংজী একবার বলেছিলেন, এটি মোদী সরকারের দ্বারা জনগণের এবং ব্যাঙ্কের অর্থের প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট। কীভাবে আপনারা ৫০ শতাংশ, ৬০ শতাংশ, ৭০ শতাংশ, ৮০ শতাংশ, ৯০ শতাংশ, এখন ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত হেয়ারকাট করতে পারেন? তাহলে কেন আপনারা এনসিএলটি-র কার্যক্রম চালাচ্ছেন? এটি হেয়ারকাটের আড়ালে শিল্পপতিদের ঋণ মকুব ছাড়া কিছু নয়। কংগ্রেস বারবার এই বিষয়টি তুলেছে। রাহুল রাহুল গান্ধীজী, খাড়গেজী, এমনকি আমার সহকর্মী, কমিউনিকেশন ইন-চার্জ শ্রী জয়রাম রমেশও বারবার তথ্য তুলে ধরেছেন যে, কীভাবে এনসিএলটি-র ব্যবস্থার মাধ্যমে হেয়ারকাটের নামে এই দেশের ব্যাংকগুলোকে লুট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রীকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে এসে জানাতে হবে যে এনসিএলটি-র মাধ্যমে হেয়ারকাটের নামে কত লক্ষ কোটি টাকা লুন্ঠন করা হয়েছে।
এর আগে এনসিএলটি-র (NCLT) এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh)। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ‘আর্থিক পরিভাষায়, কোনো পাওনাদারের পাওনা অর্থ বকেয়া থাকার সময় ঋণগ্রহীতা যদি তার কেবল একটি অংশ পরিশোধ করেন, তবে বকেয়া ও পরিশোধিত অর্থের মধ্যকার পার্থক্যকে শতাংশের হিসেবে প্রকাশ করলে তাকে ‘হেয়ারকাট’ (haircut) বলা হয়।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ঋণ পরিশোধের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে; এই পরিকল্পনার আওতায়, প্রায় ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার অনুমোদিত দাবির বিপরীতে পাওনাদাররা মাত্র ৬.৫ কোটি টাকা পাবেন। যা শুধু ‘হেয়ারকাট’ নয়, বরং এটি আক্ষরিক অর্থেই ‘টনসার’ (মাথা ন্যাড়া করে ফেলার মতো চরম ছাঁটাই)—যা ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংক্রাপ্টসি কোড, ২০১৬’-কে সম্পূর্ণ উপহাস করে।’
যদিও এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুভাষ চন্দ্র। নিজের অফিস থেকে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মোট দাবি ৩,৯৯২ কোটি টাকা। যার জন্য তিনি ব্যক্তিগত জামিনদার ছিলেন। ওই বিবৃতিতেই তিনি দাবি করেছেন, কোনও ঋণদাতার কাছ থেকে তিনি কোনও টাকা ধার করেননি। সব টাকা ধার করেছে এসেল গ্রুপের অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থা। তিনি শুধুমাত্র তার গ্যারান্টার ছিলেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন