

২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মাত্র সাড়ে ৬ কোটি টাকায় মিটিয়ে ফেলে সংবাদ শিরোনামে জি টিভির প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু কে এই সুভাষ চন্দ্র? যাকে নিয়ে এত আলোচনা? আসুন, এক নজরে জেনে নেওয়া যাক মিডিয়া ব্যারন হিসেবে পরিচিত, বিজেপি ঘনিষ্ঠ সুভাষ চন্দ্রের কথা। যিনি ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন এবং হরিয়ানা থেকে বিজেপির সমর্থনে জয়ী হয়েছিলেন। ২০২২-এ রাজস্থান থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির মদতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সেবার তিনি পরাজিত হন। ফোর্বস (Forbes) তালিকায় যিনি ২০১৪ সালে ২১ তম এবং ২০১৫ সালে ১৮ তম স্থানে ছিলেন।
হরিয়ানার হিসারের মানুষ সুভাষ চন্দ্রের জন্ম ১৯৫০-এ। ১৯৯২ সালে তিনি জি টিভির প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি যে সময় জি টিভির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখনও মানুষ টিভি বলতে সরকারি দূরদর্শনকেই মোটামুটি বুঝতো। যদিও এইসময়েই জি টিভির প্রতিষ্ঠা করে তাঁকে দাঁড় করিয়ে মিডিয়া ব্যারন হিসেবে পরিচিত হন সুভাষ চন্দ্র। এসেল গ্রুপের রমরমা শুরু হতেই তিনি টেলিভিশন ব্রডকাস্টিং, খবর, ডিজিটাল মিডিয়া, বিনোদন বিভিন্ন দিকে বিনিয়োগ করেন। ২০০৫ সালে দৈনিক ভাস্কর গ্রুপের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে তিনি তৈরি করেন ইংরেজি সংবাদপত্র ডিএনএ। যদিও সেই কাগজ বন্ধ হয়ে যায় ২০১৯ সালে।
২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ করেন ড. সুভাষ চন্দ্রের আত্মজীবনী ‘দ্য জেড ফ্যাক্টর: মাই জার্নি অ্যাজ দ্য রং ম্যান অ্যাট দ্য রাইট টাইম’ (The Z Factor: My Journey as the Wrong Man at the Right Time)। এই গ্রন্থেই তিনি জানিয়েছিলেন, অল্প বয়স থেকেই তিনি আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালেই তিনি হরিয়ানা থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিজেপির কাছে সমর্থন চান। বিজেপি তাঁকে সমর্থন দিতে রাজি হয় এবং তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে বিজেপি প্রার্থীদের প্রচারে অংশ নেন। এইসময়েই হরিয়ানার হিসারে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার আয়োজন করেন। ২০১৪ হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
২০১৮ সাল থেকে আর্থিক সংকটে পড়ে জি টিভি। ২০১৯-এর ২৫ নভেম্বর জি এন্টারটেনমেন্ট এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন সুভাষ চন্দ্র। যদিও ২০২০ সালের আগস্ট মাসে জি এন্টারটেনমেন্ট এন্টারপ্রাউজের পক্ষ থেকে তাঁকে এমিরেটাস চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়। বর্তমানে তিনি সাম্মানিক সেই পদেই বহাল আছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন