

জি টিভির প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রের ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ সাড়ে ৬ কোটি টাকায় নিষ্পত্তি করে দেওয়ার পর শুরু হওয়া বিতর্ক আরও দানা বাধলো। ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ইতিমধ্যেই এসেল গ্রুপের সুভাষ চন্দ্রের পক্ষে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হচ্ছে একাধিক পক্ষ। আগামী কাল এই সংক্রান্ত শুনানি হবে।
ইতিমধ্যেই এনসিএলটি-র এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সুভাষ চন্দ্র দাবি করেছেন যে এই ঋণ তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ঋণ নয়। বরং তিনি তাঁর বিভিন্ন সংস্থার নেওয়া ঋণের গ্যারান্টার হয়েছিলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট নিয়ে তিনি সরব হয়েছিলেন। যদিও তাঁর সেই বক্তব্য সত্ত্বেও এনসিএলটি-র এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এই বিতর্ক আরও বাড়ে ঋণদানকারী একাধিক সংস্থা সরাসরি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খোলায়।
সোমবার এলআইসি হাউসিং-এর পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দ্রুত এই বিষয়টি শুনানির জন্য আবেদন করেন। এই আবেদনে সরাসরি এনসিএলটি-র ঋণ মকুবের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এনসিএলটি-র সিদ্ধান্ত অনুসারে এলআইসি হাউসিং ১৩২২ টাকা ঋণের বিনিময়ে ফেরত পাবে মাত্র ৩৯ লক্ষ টাকা।
প্রসঙ্গত, ২০২২ থেকে এই মামলা শুরু হয় ইন্ডিয়া বুলসের এক আবেদনের ভিত্তিতে। বিবেক ইনফ্রাকনকে দেওয়া ১৭০ কোটি টাকার ঋণে পার্সোনাল গ্যারান্টার ছিলেন সুভাষ চন্দ্র। বিপুল অঙ্কের এই ঋণ বিবেক ইনফ্রাকন ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইন্ডিয়া বুলস (বর্তমানে সম্মান ক্যাপিটাল) আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং এনসিএলটি-র দ্বারস্থ হয়। ২০২৪ সালে এই আবেদন স্বীকার করা হয় এবং এই আবেদনের সঙ্গে আরও অনেক ঋণদাতা যুক্ত হন।
চলতি বছরে এনসিএলটি-র দুই জুডিশিয়াল সদস্য এই ঘটনায় দ্বিমত পোষণ করার পর তৃতীয় পক্ষ হিসেবে নীলেশ শর্মাকে যুক্ত করা হয়। ২৫ শে আগস্ট নীলেশ শর্মা ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণের নিষ্পত্তি করতে সাড়ে ৬ কোটি টাকার মীমাংসা সূত্র মেনে নেন। যার মধ্যে ৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ঋণদাতাদের মধ্যে আনুপাতিক হারে ভাগ করে ফেরত দেবার কথা হয় এবং বাকি ২৫ লক্ষ টাকা প্রসেসিং-এর খরচ হিসেবে ধরা হয়।
কানাড়া ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা এনসিএলটি-র আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করছে। ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (ইউকে) জানিয়েছে, তারা এনসিএলএটি-র কাছে এনসিএলটি-র এই সিদ্ধান্তকে “অবিলম্বে চ্যালেঞ্জ” করছে। এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্স (এলআইসিএইচএফএল)-ও জানিয়েছে যে, তারা অন্যান্য সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অবিলম্বে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
ঋণদাতাদের ৮০.৮১ শতাংশ ভোট পরিশোধ পরিকল্পনাটি পাওয়া সত্ত্বেও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এনসিএলটি-র দ্বারস্থ হতে চলেছে বিভিন্ন সংস্থা। কানাড়া ব্যাংক জানিয়েছে, তারা ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (ইউকে) এবং এলআইসিএইচএফএল-এর সঙ্গে মিলে এই পরিশোধ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল। কানাড়া ব্যাংক (১.৬০ শতাংশ ভোটিং শেয়ার) অন্যান্য সরকারি খাতের সংস্থা ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (০.৭৬ শতাংশ ভোটিং শেয়ার) এবং এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্স লিমিটেড (৬.০৯ শতাংশ ভোটিং শেয়ার)-এর সঙ্গে মিলে ডঃ সুভাষ চন্দ্রের জমা দেওয়া ৬.২৫ কোটি টাকার পরিশোধ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে এবং এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। যদিও, অন্যান্য বেসরকারি ঋণদাতারা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে (৮০.৮১% ভোটিং শেয়ার) এই পরিশোধ পরিকল্পনাটি অনুমোদন করে।
একই ধরণের বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, এলআইসি হাউসিং ফিনান্স। এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক জানিয়েছে তারাও আপিল করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন