

বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার অতি তৎপরতাকে তীব্র তিরস্কার জানানো সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল সংক্রান্ত বিষয়ে বিসিআই-এর তীব্র সমালোচনা করে শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও বিজেপি সাংসদ মনন কুমার মিশ্র এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন নালসার ইউনিভার্সিটির ২০২৬ সালের স্নাতকদের উদ্দেশ্যে।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে নালসারকে পাঠানো বিসিআই-এর চিঠির বিরুদ্ধে করা আবেদন পেশ করা হলে প্রধান বিচারপতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি ‘অপ্রয়োজনীয়’ ছিল। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আমার একটি বিষয়। সেখানে এই ঘটনা সম্পূর্ণ অযাচিত। এদিনই শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে যে, নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল’র ছাত্র ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। এই ঘটনা প্রধান বিচারপতি এবং তাঁদের মধ্যের বিষয়। এখানে বার কাউন্সিলের ভূমিকা কী? বিসিআই এখানে অহেতুক হস্তক্ষেপ করেছে।
গত সপ্তাহেই নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল-র কিছু ছাত্র ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে তাদের সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণের বিরোধিতা করে। দিল্লীর যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক মন্তব্যই তাঁদের ক্ষোভের কারণ বলে জানা গেছে।
গতকালের লেখা চিঠিতে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ মনন কুমার মিশ্র সব রাজ্যের বার কাউন্সিলকে নির্দেশ দেন নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল, হায়দারাবাদ থেকে ২০২৬ সালে স্নাতক হওয়া কোনও ছাত্রকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না।
এর পাশাপাশি তিনি নালসার ইউনিভার্সিটির উপাচার্যকে নির্দেশ দেন কোন কোন ছাত্র এই বিরোধিতা করেছে, ছাত্রদের সংগঠিত করেছে, সংবাদমাধ্যমে যোগাযোগ করেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালিয়েছে তাঁদের চিহ্নিত করে তাঁদের নাম জানানোর। এছাড়াও তিনি জানতে চান বিক্ষোভকারী ছাত্ররা কোনও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কিনা বা এই বিক্ষোভের পেছনে বহিরাগত কেউ আছে কিনা তাও জানাতে হবে।
চিঠিতে মনন কুমার মিশ্র লেখেন, কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, কিছু শিক্ষকের মধ্যে দলাদলি ও নোংরা রাজনীতির কারণে তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত, উস্কানি দেওয়া এবং বিপথে চালিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। যা খুবই গুরুতর বিষয়। শিক্ষকরা শিক্ষাদানে মনোনিবেশ না করে ক্যাম্পাসে নোংরা রাজনীতি করছেন। আইন শিক্ষার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া এমন একটি গুরুতর পরিস্থিতিতে নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেনা।
বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যানের এই নিষেধাজ্ঞা জারির পর সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, “চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র যদি অবিলম্বে এই আদেশ প্রত্যাহার না করেন, তবে দেশের সমস্ত আইনের শিক্ষার্থী, আইনজীবী, প্রবীণ আইনজীবী এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন তরুণ 'ককরোচ'রা বার কাউন্সিলের কার্যালয় ও মিশ্রের সরকারি বাসভবনের সামনে এবং নিজ নিজ রাজ্যে প্রতিবাদে শামিল হবে। @MishraManan01-কে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”
এর পরেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিসিআই (BCI) আরেকটি চিঠি পাঠায়,যাতে বলা হয়: “হায়দ্রাবাদের নালসার (NALSAR) ইউনিভার্সিটি অফ ল-এর বিষয়ে ১৩.০৮.২০২৬ তারিখের BCI:D:5449/2026 নং চিঠিতে উল্লিখিত নির্দেশাবলি—যার মধ্যে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান এবং ২০২৬ সালে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তালিকাভুক্তি অন্তর্ভুক্ত—সেগুলোর পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন