

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)-র সদ্য চালু হওয়া অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতিতে যে অসঙ্গতি সামনে এসেছে তার দায়ভার নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান একথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, মূল্যায়ন এবং স্ক্যান করা উত্তরপত্র মূল্যায়ন সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যার সমাধান করা হবে।
গত ১৩ মে সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণীর ফলাফল প্রকাশের পর এই বিতর্ক শুরু হয়। বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রীর পক্ষ থেকে কম নম্বর পাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। এছাড়াও সদ্য চালু হওয়া ওএসএম মূল্যায়ন নিয়েও ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সিবিএসই এই বিষয়ে পোর্টাল খোলার পর বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ করে, ঝাপসা স্ক্যান, অপরীক্ষিত পাতা, উত্তরপত্র অমিল এবং মূল্যায়নে গরমিল হয়েছে। বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী জানায় তাঁদের রোল নাম্বারে যে খাতা আপলোড করা হয়েছে তা তাদের নয়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ছাত্রকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগিয়ে দেয় কিছু মানুষ। যদিও পরে সিবিএসই-র পক্ষ থেকে ভুল স্বীকার করে নেওয়া হয় এবং বেশ কিছু ছাত্রর কাছে সংশোধিত কপি পাঠানো হয়।
আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রধান বলেন, এবছর প্রায় ১৭ লক্ষ পরীক্ষার্থী সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় বসেছিল। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৯৮ লক্ষ উত্তরপত্রের কপি আছে। যার প্রতিটিতে প্রায় ৪০টি করে পাতা আছে। সিবিএসই প্রথমবার ওএসএম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৪০ কোটি স্ক্যান করা পাতা মূল্যায়ন করেছে।
সিবিএসই-র এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীর করা মন্তব্যের উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রধান জানান, ‘এটা রাজনীতি করার সময় নয়।’ এই মুহূর্তে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ছাত্রছাত্রীদের মানসিক চাপ যেন না বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, এই সমস্যার সংশোধন করে যথাযথ সমাধান করা হবে। আমরা সবাই এই কাজে নিয়োজিত আছে। তদন্তে যদি কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে কাউকে রেহাই দেওয়া হবেনা।
প্রসঙ্গত, সিবিএসই-র ঘটনায় গতকালই মুখ খুলেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বুধবার এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিবিএসই-র ফলাফলে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। যা সারা দেশের ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের হতবাক করেছে।
রাহুল গান্ধীর আরও অভিযোগ, যে সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারা ২০১৯ সালে তেলেঙ্গানায় অন্য নামে একই ধরণের কান্ড করেছিল। এক্ষেত্রে নাম বদলেছে, কিন্তু উদ্দেশ্য একই। সবাই সেই ইতিহাস জানা সত্ত্বেও তাদেরই কাজ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন