

মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বারুদ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৯। সোমবার সকালে হাসপাতালে আহত এক শ্রমিক মারা গেছেন। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিস্ফোরণে গুরুতর আহত অবস্থায় আরও ২৩ শ্রমিক শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রবিবার সকালে কাতোল তহসিলের রাউলগাঁওয়ে এসবিএল এনার্জি লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে। সংস্থার ডিটোনেটর প্যাকিং শাখায় বিস্ফোরণটি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে আচমকা প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। তারপরই দেখা যায়, বারুদ কারখানা থেকে আগুন এবং ধোঁয়া বার হচ্ছে। বিস্ফোরণ এতটাই জোরালো ছিল যে, কারখানার ছাদ উড়ে গিয়েছে। কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেছে। স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধারকার্যে নামেন।
তাঁরা আরও জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই অনেকের মৃত্যু হয়েছিল। কিছু দেহ এমন ঝলসে গয়েছিল যে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা।
বেশ কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দমকল। তারপর আসে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা।
নাগপুরের পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) হর্ষ পোদ্দার জানিয়েছেন, মৃতদেহগুলি এতটাই পুড়ে গেছে যে তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশ এসবিএল এনার্জি লিমিটেডের নয়জন ডিরেক্টরকে গ্রেফতার করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার রাতেই রাজ্যের রাজস্বমন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলের সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনারেটে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক এবং অন্যান্য নেতাদের সাথে একাধিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মৃতদের পরিবার পিছু দু’লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন তিনি। আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা।
মহারাষ্ট্র সরকারও মৃতদের পরিবার পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করেছে।
এসবিএল ভারতে শিল্প ও খনির বিস্ফোরক প্রস্তুতকারক এবং সরবরাহকারীদের মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়। ২২৫ একরেরও বেশি জায়গা জুড়ে কারখানাটি অবস্থিত। ডেটোনেটর এবং ইমালসন বিস্ফোরক সহ বিভিন্ন ধরণের সেনসিটিভ উপকরণ তৈরি করে। বর্তমানে কারখানাটির একটি বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার দুপুরে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলার ভেটলাপালেম গ্রামে এক আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ হয়। সেই ঘটনায় ২১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন