

আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করে দিল তৃণমূল। প্রার্থিতালিকায় একাধিক চমক রয়েছে। তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী।
এই মুহূর্তে এর মধ্যে অন্যতম চর্চিত নাম মেনকা গুরুস্বামী। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তিনি। তবে তাঁর অন্য এক পরিচিতিও আছে। তিনি এলজিবিটিকিউ প্লাস (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এক পরিচিত মুখ। তিনি নিজেও সমকামী। আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী হলে তিনিই হবেন ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে প্রথম সমকামী সাংসদ।
মেনকা গুরুস্বামীর বাবা মোহন গুরুস্বামী সক্রিয় আরএসএস কর্মী ছিলেন। BJP-র প্রাক্তন স্ট্র্যাটেজিস্টও ছিলেন। অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহার বিশেষ উপদেষ্টা ছিলেন মোহন গুরুস্বামী। এই পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমিতেই বড় হয়েছেন মেনকা। এবার তৃণমূলের হাত ধরে দেশের সাংসদ হতে চলেছেন তিনি।
ছাত্রী হিসাবে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন মেনকা। ‘ন্যাশনাল ল স্কুল’, ‘হার্ভার্ড’ এবং ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়’-এর মতো বিশ্বের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ইয়েল ল স্কুল, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল-তে ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে পড়িয়েছেন।
মেনকা ঘোষিত সমকামী। তাঁর দীর্ঘদিনের ‘পার্টনার’ অরুন্ধতি কাটজু-ও আইনজীবী। ২০১৬ সালে সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে (৩৭৭ ধারা বাতিল) সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন তাঁরা। ২০১৮ সালে ৩৭৭ ধারা বাতিল করে ঐতিহাসিক রায় দেয় শীর্ষ আদালত। এরপর ২০১৯ সালে সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেনকা এবং অরুন্ধতি নিজেদের ‘কাপল’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
LGBTQ+ অধিকার রক্ষার নিরন্তর লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালে ‘টাইম’ (TIME) ম্যাগাজিনের ১০০ জন সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পান মেনকা।
সম্প্রতি তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের হয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁকে সওয়াল করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আইপ্যাক মামলা, এসআইআর মামলা এবং আরজি কর মামলা।
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য মামলাগুলির একটি হল - ছত্তিশগড়ে মাওবাদী দমনে তৈরি বিতর্কিত বাহিনী ‘সলওয়া জুড়ুম’-এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই। এছাড়া মণিপুরে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন