

মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলো কংগ্রেস। কংগ্রেসের অভিযোগ, “মধ্যপ্রদেশে বিজেপির 'ডাবল-ইঞ্জিন' সরকারের অধীনে 'লুটের ইঞ্জিন' পুরোদমে চলছে। এই লুটের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব।” কংগ্রেসের যোগাযোগ বিভাগের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ মঙ্গলবার এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) একথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারি এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের কপি পোষ্ট করে জয়রাম রমেশ আরও লেখেন, “এমন কথাও শোনা যাচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ‘খবর তৈরির’ কাজ করেছেন সেই কৃষিমন্ত্রী, যিনি মধ্যপ্রদেশ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারে চলে গেছেন! মনে হয়, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ক্ষমতা এবং লুটের ভাগ নিয়েই হচ্ছে।”
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ ‘এক্সপ্রেস ইনভেস্টিগেশন’ শীর্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের পরিবার এবং তাদের রিয়েল এস্টেট সংস্থাগুলো ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে পরবর্তী দু’বছরে উজ্জয়িনীতে ৪৫ কোটি টাকায় ১৬৮ একর জুড়ে বিস্তৃত ১৩৭টি প্লট অধিগ্রহণ করেছে। যার বেশিরভাগটাই সরকারের ঘোষিত সড়ক প্রকল্প এবং জমি উন্নয়নের সুবিধাভোগী এলাকাগুলোতে অবস্থিত।
উজ্জয়িনীর জমি বিতর্কের ঘটনায় বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের ইস্তফার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার ভূপালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারী বলেন, এই ঘটনা মহাকালের জমি লুন্ঠন। অবিলম্বে এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রয়োজন। ক্ষমতায় আসার পর কীভাবে তাঁর পরিবারের জমির পরিমাণ ১০০ একর থেকে বেড়ে ৩৩৫ একর হয়ে গেল তার ব্যাখ্যা মোহন যাদবকে দিতে হবে।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে জিতু পাটোয়ারী আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নন। তিনি পুরো রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা এই পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা স্পষ্ট যে রাম মন্দিরের অনুদান চুরি এবং মহাকালের জমি লুটের সঙ্গে বিজেপি জড়িত। তিনি বলেন, নৈতিক কারণে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের পদত্যাগ করা উচিত এবং এই বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত।
জিতু পাটোয়ারীর দাবি অনুসারে, উজ্জয়িনীর ওই অঞ্চলে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের নীলেশ যাদবের ১০৮ একর, গোবিন্দ যাদবের ৪৭ একর, মোহন যাদবের ১৭ একর, সীমা যাদবের ১১ একর, বৈভব যাদবের ১৭ একর, শালিনী যাদবের ১০ একর, নারায়ণ যাদবের ১৯ একর, নন্দলাল যাদবের ১৭ একর, কলাবতী যাদবের ১৭ একর, অভয় যাদবের ১৬ একর, রেখা যাদবের ৬ একর জমি আছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পাটোয়ারী দাবি করেন, এই ঘটনায় চারটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির উল্লেখ রয়েছে, যেগুলোতে সীমা যাদব ও মোহন যাদবের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা বা অংশীদারিত্ব রয়েছে। মোহন যাদবের স্ত্রী সীমা যাদব এবং ছেলে বৈভবের সাথে ২৫ একর জমির সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, মোহন যাদবের বোন কলাবতীর ননদ সুনীতার সাথে ৪৭ একর জমির সংযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের তিনটি ভিন্ন কোম্পানিতে উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব রয়েছে। মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোহন যাদবের দায়িত্ব পালনকালে, এই জমিগুলোর আশেপাশেই বেশ কয়েকটি সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন