

প্রজাতন্ত্র দিবসের কয়েকদিন আগে ইন্ডিয়া গেটে অমর জওয়ান জ্যোতির চিরন্তন শিখা চিরতরে নিভিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। অমর জওয়ান জ্যোতির জ্বলন্ত মশালটি ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের মশালের সাথে একীভূত করা হবে। আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় একটি অনুষ্ঠানে ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ প্রধান এয়ার মার্শাল বালবধারা রাধা কৃষ্ণের সভাপতিত্বে একটি অনুষ্ঠানে এটি করা হবে।
৫০ বছর ধরে জ্বলা অমর জওয়ান জ্যোতি নিভিয়ে দেওয়ার কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি নিজের ট্যুইটারে লেখেন, "অমর জওয়ান জ্যোতি নিভিয়ে দেওয়া, ইতিহাস নিভিয়ে দেওয়ার সমতুল্য। কারণ এটি সেই ৩,৪৮৩ জন সাহসী সেনার আত্মত্যাগের কথা মনে করায় আমাদের, যারা পাকিস্তানকে দু'ভাগে ভাগ করেছিলেন এবং দেশভাগের পর দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রকে পুনরায় তৈরি করেছিলেন। এটা হাস্যকর যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বছরে স্বাধীনতার ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়টিকে মুছে ফেলার জন্য সরকার (মোদী সরকার) উঠেপড়ে লেগেছে।"
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ হওয়া ভারতীয় সেনাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই অমর জওয়ান জ্যোতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৭২ সালের ২৭ জানুয়ারি এই স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনের পর থেকে এর সামনে সর্বক্ষণ একটি আগুনের শিখা জ্বলে। এবার এখান থেকে সেই শিখা তুলে নেওয়া হবে। নিয়ে যাওয়া হবে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে, যা ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এই খবর প্রকাশিত হতেই তীব্র প্রতিবাদে নামে বিরোধীরা। পাশাপাশি নেটদুনিয়ায় সরব হন আমজনতার একাংশ। চাপের মুখে সাফাই দিতে বাধ্য হয় কেন্দ্র। কেন্দ্রের কথায়, অমর জওয়ান জ্যোতির শিখা নিয়ে ভুল তথ্য প্রচারিত হচ্ছে। শিখা নিভিয়ে দেওয়া হচ্ছে না, ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের শিখার সাথে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অমর জওয়ান জ্যোতির শিখা ১৯৭১ সালে যুদ্ধে নিহত সেনাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে হলেও সেখানে তাঁদের কারো নাম খোদাই নেই। ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে ১৯৭১ এবং এর আগে-পরে যুদ্ধে নিহত সমস্ত ভারতীয় শহিদদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাই অমর জওয়ান জ্যোতি থেকে শিখা তুলে নিয়ে, ওয়ার মেমোরিয়ালের শিখার সাথে তা মেলানোর মাধ্যমে শহিদদের প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন