মেঘালয়ে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের তাসখাই (Taskhai) অঞ্চলে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে তাসখাইয়ের মিন্সিনগাটে এক অবৈধ কয়লাখনিতে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি করা হয়েছে নিহতদের ৩ জন আসামের শ্রমিক। ঘটনার পরেই দুই অবৈধ কয়লাখনির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ের এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। শুক্রবার সকালে তিনি জানিয়েছেন তাঁর সরকার এই ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে তিনি ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, রাজ্যে কোনও অবৈধ কয়লাখনি বরদাস্ত করা হবেনা।
মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা দাবি করেছেন, সরকার অবৈধ র্যাট-হোল খনিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ পর্যন্ত ১,০০০-এর বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শ্রমিকদের অধিকাংশই কাটিগোড়ার বিহারা গ্রামের বাসিন্দা। ইতিমধ্যেই ১৬ জন শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এস পি বিকাশ কুমার। ঘটনার পরেই দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকারী দল এবং পুলিশ ওই অঞ্চলে পৌঁছে যান।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার করে দেবার ঘোষণা করেছেন।
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা নিহতদের পরিবারের উদ্দেশ্যে ৩ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবার কথা ঘোষণা করেছেন।
ওয়াইনাডের কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “মেঘালয়ের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে বহু শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
গতকালের এই ঘটনার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মেঘালয় হাইকোর্ট। এক স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের পর বিচারপতি এইচ.এস. থাংখিউ এবং বিচারপতি ডব্লিউ. দিয়েংডোহের সমন্বয়ে গঠিত এক ডিভিশন বেঞ্চ এই অঞ্চলের অবৈধ কয়লাখনির কার্যকলাপ নিয়ে 'গভীর উদ্বেগ' প্রকাশ করেছেন এবং পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ের ডেপুটি কমিশনার এবং পুলিশ সুপারকে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০:৩০টায় আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তলব করেছে। বেঞ্চ বলেছে, নির্দেশ অমান্য করা হলে তারা পরবর্তী নির্দেশ জারি করবে।
প্রসঙ্গত, মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কয়লাখনি এবং র্যাট হোল মাইনিং চলে আসছে। এই বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অবৈধ কয়লা খনন বন্ধ করা যায়নি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন