বিজেপি নেতৃত্বের আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁকে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে বিদেশি ফান্ডিং-এর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়ে তাঁর কাছে জানাবার মত কোনও তথ্য নেই। এর আগে ককরোচ জনতা পার্টির ছাত্র আন্দোলনে বিদেশি ফান্ডিং-এর অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে, বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য প্রমুখ। একই অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরব হয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা।
শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের (Ministry of External Affairs) সাংবাদিক সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যেখানে এক সাংবাদিক এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ওঠা বিদেশি ফান্ডিং-এর বিষয়ে জানতে চান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "এই বিষয়ে আপনাদের জানানোর মতো কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।"
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন থেকে দিল্লীর যন্তর মন্তরে নীট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সিজেপি। যে বিক্ষোভ আন্দোলনে অংশ নিয়ে গত ২৮ জুন থেকে অনশনে বসেন পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। এরপরেই এই আন্দোলনে ক্রমশ বাড়তে থাকে জনসমর্থন এবং গত ২০ জুলাই সিজেপি-র ডাকে চলো সংসদ অভিযানে কার্যত অচল পড়ে দিল্লীর বিস্তীর্ণ অংশ।
এই আন্দোলনে বিদেশি ফান্ডিং-এর অভিযোগ তোলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তিনি অভিযোগ করেন যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের পেছনে ভারত-বিরোধী শক্তির হাত রয়েছে। এর পরেই বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যও একই ধরনের দাবি করেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকারীদের 'দহশৎগর্দ' (চরমপন্থী) বলেও অভিহিত করেছিলেন। যদিও এদিন বিদেশ মন্ত্রকের সাংবাদিক সম্মেলনে সেই দাবি কার্যত নস্যাৎ করা হল।
২০ জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত CJP প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের দু-দফা আলোচনা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। শুক্রবারের পর আজ শনিবার ফের CJP প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা সরকারের।
CJP নেতৃত্ব জানিয়েছে, সরকার নীতিগতভাবে তাদের দুটি দাবি মেনে নিয়েছে এবং তৃতীয় দাবিটি—অর্থাৎ ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ—বিবেচনা করার জন্য একদিন সময় চেয়েছে। আজকের বৈঠকে সেই বিষয়ে অর্থাৎ ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই আশাবাদী সিজেপি নেতৃত্ব।
নয়াদিল্লিতে বৈঠকের পর গতকাল CJP-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের জানান, "আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে তাঁকে অপসারণের চেয়ে কম কিছুতেই আমরা রাজি হব না।"
বর্তমানে সিজেপি-র এই আন্দোলন আর শুধু যন্তর মন্তরে সীমাবদ্ধ নেই। বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন শহরে। শুক্রবারই সিজেপির আন্দোলনের সমর্থনে বাম ছাত্র যুবরা কলকাতায় এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করে। এর আগে পাটনা, পুনা, মুম্বাই প্রভৃতি জায়গাতেও একই দাবিতে ছাত্ররা পথে নামে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন