

১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের অনুমোদন মিলেছিল ২০২০ সালের ২৩ জুন। কাগজে কলমে হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স অন্যান্য কর্মীর মোট সংখ্যা ৮৭। গত মাসেই সেই হাসপাতালে কর্মী নিয়োগও হয়েছে। যদিও সরকারি হিসেবে সবকিছু চললেও আদতে কোনও অস্তিত্বই নেই সেই হাসপাতালের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা মধ্যপ্রদেশের। বিজেপি শাসিত রাজ্যের ইন্দোরের খাজরানা অঞ্চলের এই ঘটনায় বিস্মিত সব মহল। এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে রাজনৈতিক মহল।
২০২০ সালের ২৩ জুন যখন এই হাসপাতালের অনুমোদন দেওয়া হয় তখনই চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মেডিক্যাল অফিসার, নার্স, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ন সহ মোট ৮৭টি পদের অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও গত ৬ বছরে সেই হাসপাতালের কোনও বাড়ি তৈরি করা হয়নি। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ওই হাসপাতালের জন্য এখনও কোনও জমিও বরাদ্দ হয়নি।
গত ১৫ জুন এই হাসপাতালে একজন ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়নকে নিয়োগ করা হয়। এর পরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই বিষয়ে চিফ মেডিক্যাল অ্যান্ড হেলথ অফিসার ডাঃ মাধব হাসানি জানিয়েছেন এই অঞ্চলে সঠিক সরকারি জমি চিহ্নিত করতে না পারার জন্য প্রস্তাবিত এই হাসপাতালের কাজে দেরি হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই হাসপাতালে যেসব নার্স এবং প্যারামেডিক্যাল কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে তাঁরা বিভিন্ন সরকারি ক্লিনিকে কাজ করছেন। যতক্ষণ না এই হাসপাতাল তৈরি হবে ততক্ষণ সেইসব জায়গাতেই তাঁরা কাজ করবেন।
মধ্যপ্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেন্দ্র শুক্লা জানিয়েছেন, জমি না পাওয়ায় এই হাসপাতালের কাজ শুরু করা যায়নি। তাই এই হাসপাতালে নিযুক্ত কর্মীদের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আপাতত জমি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। জমি পাওয়া গেলেই হাসপাতালের কাজ শুরু হবে।
মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই হাল নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী কংগ্রেস। পুরো বিষয়টিকেই এক ‘বড়ো দুর্নীতি’ বলে অভিহিত করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সজ্জন সিং। তাঁর প্রশ্ন, যে হাসপাতালের অস্তিত্ব শুধুমাত্র কাগজে কলমে সেখানে কী করে নিয়োগ হয় এবং কীভাবেই বা কর্মীদের বদলি হয়। তিনি এই ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন