লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ওই বাড়ির এক মালিকও রয়েছেন। এই ঘটনার তদন্তে সিট গঠন করা হয়েছে। সোমবারের এই ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই পড়ুয়া। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯ জন।
সোমবার দুপুরে আচমকাই উত্তর-পূর্ব লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় উষা মেহতা মার্গে এক কোচিং সেন্টারে আগুন লাগে। ঘটনার সময় ওই কোচিং সেন্টারে অনেক পড়ুয়া ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে কোচিং সেন্টারের দোতলার জানলা ভেঙে নীচে ঝাঁপ দেন।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, ভবনের এসি ডাক্ট থেকেই আগুন ছড়িয়েছিল। ভবনটিতে নিরাপত্তাজনিত বেশ কিছু ত্রুটির কথাও উঠে এসেছে। তিনতলা ওই ভবন থেকে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বেরোনোর জন্য কোনও পথ ছিল না। ছাদে যাওয়ার পথটিও বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ। ফলে ধোঁয়া এবং আগুন ভবনে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি।
লখনউ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (LDA)-র নথিপত্র অনুযায়ী, উষা মেহতা মার্গের তিনতলা বাড়িটি ২০১৪ সালে ‘সেলফ-সার্টিফিকেশন বিল্ডিং প্ল্যান’ প্রকল্পের আওতায় মূলত আবাসিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছিল। যদিও বর্তমানে এটি একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল; সেখানে কোচিং সেন্টার, পেট শপ, পশুচিকিৎসা কেন্দ্র, গেমিং জোন, অ্যানিমেশন সেন্টার এবং একটি আইটি অফিস সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছিল।
এলডিএ (LDA)-র নথিপত্র অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ ওই সম্পত্তিতে অননুমোদিত নির্মাণকাজ চিহ্নিত করে মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। এরপর ২০১৬ সালের মে মাসে সংস্থাটি বাড়ি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। যদিও ২০১৬ সালের জুলাই মাসে সেই নির্দেশ বাতিল করা হয়, যার ফলে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বাড়িটিতে চলা কাজকর্ম অব্যাহত থাকে।
গত ২২ জুনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর, এলডিএ আবারও ভবনটি ভেঙে ফেলার নোটিশ জারি করেছে। পাশাপাশি, ভবনটির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য থাকা সত্ত্বেও যেসব কর্মকর্তার কথিত নিষ্ক্রিয়তার কারণে এটি চালু রাখা সম্ভব হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কী ভাবে ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। নিহতদের পরিবার পিছু দু’লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন