LPG Cylinder: ইরান যুদ্ধের আবহে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ; সংকট কতটা?

People's Reporter: কেন্দ্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই মুহূর্তে এলপিজি-র কোনও সংকট নেই। ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হবার আশঙ্কাকে কাজে লাগে লাগিয়ে কোনও দুষ্টচক্র এ কাজ করতে পারে।
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবিছবি সংগৃহীত
Published on

আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের আবহে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় এলপিজি সংকটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের বিভিন্ন শহরে এলপিজি-র জন্য গ্যাস এজেন্সির বাইরে মানুষকে দীর্ঘক্ষণ লাইন দিতে দেখা গেছে।

তবে সংবাদমাধ্যমে এই ধরণের খবর প্রকাশিত হলেও, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই মুহূর্তে এলপিজি-র কোনও সংকট নেই। ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হবার আশঙ্কাকে কাজে লাগে লাগিয়ে কোনও দুষ্টচক্র এ কাজ করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বেশকিছু জায়গায় গ্যাসের কালোবাজারিও শুরু হয়েছে এবং ১,৫০০ টাকা করে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ভারতে এলপিজি মূলত আসে সংযুক্ত আরব আমীরশাহী, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব প্রভৃতি দেশ থেকে। ভায়া হরমুজ প্রণালী এই পণ্য ভারতে আসে। আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। জানা গেছে, এর ফলে ভারতেরই অন্তত ৩৭টি জাহাজ আটকে গিয়েছে। ভারতের আমদানি করা গ্যাসের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে, হরমুজ প্রণালী হয়ে। যুদ্ধের কারণে এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সংকট নেই বলে জানানো হলেও, বর্তমানে এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হবার আশঙ্কা যে অমূলক নয় তাও মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে এলপিজির দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্যাস বুকিং-এর নিয়মেও কঠোরতা আনা হয়েছে। বর্তমানে এলপিজি বুকিং-এর সময়সীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ২১ দিন করা হয়েছে। যাদের ২টি সিলিন্ডার আছে তাদের দুই বুকিং-এর মধ্যে লক-ইন পিরিয়ড বাড়িয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। যদিও সরকার জানিয়েছে, আপাতত এলপিজি সিলিন্ডারে দেশব্যাপী কোনও ঘাটতি নেই। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতে পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত আছে।

তবে সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও আচমকাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজি বুকিং অনেকটাই বেড়েছে। যার পেছনে আতঙ্ক কাজ করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় বুকিং নিয়ে হয়রানি হতে হচ্ছে বলেও গ্রাহকরা অভিযোগ জানিয়েছেন। বিশেষ করে এলপিজি-র দাম বাড়ার পরই বুকিং-এর প্রবণতা বেড়েছে। যুদ্ধের আবহে গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে সিলিন্ডার বুকিং-এর চেষ্টা করছেন বলেই মনে করছে তথ্যভিজ্ঞ মহল।

প্রসঙ্গত, গত ৭ মার্চ মাঝরাত থেকে এলপিজির বর্ধিত দাম কার্যকর হয়েছে। রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছে সিলিন্ডার পিছু ১১৪.৫০ টাকা করে।

কলকাতায় আগে সিলিন্ডার পিছু গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের (১৪.২ কেজি) দাম ছিল ৮৭৯ টাকা। মূল্যবৃদ্ধির পর তা হয়েছে ৯৩৯ টাকা। বাণিজ্যিক গ্যাসের (১৯ কেজি) আগে সিলিন্ডার পিছু দাম ছিল ১,৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। এখন হয়েছে ১,৯৯০ টাকা। এর ৫ দিন আগে গত ১ মার্চ বাণিজ্যিক গ‍্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি ৩১ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল।

প্রতীকী ছবি
৬০ টাকা বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম, মহিলাদের কালো শাড়ি পরে হাঁড়ি-কড়াই নিয়ে পথে নামার আহ্বান মমতার
প্রতীকী ছবি
CPIM: ৬০ লক্ষ মানুষের জন্য লড়াই, যতক্ষণ দাবির মীমাংসা না হবে ততক্ষণ অবস্থান চলবে - মহঃ সেলিম

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in