

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে দেশে বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম। একধাক্কায় সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা দাম বাড়িয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও বেড়েছে সিলিন্ডার পিছু ১১৪.৫০ টাকা করে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই এই দাম কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিবাদে মহিলাদের পথে নামার ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতায় আগে সিলিন্ডার পিছু গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের (১৪.২ কেজি) দাম ছিল ৮৭৯ টাকা। মূল্যবৃদ্ধির পর তা হয়েছে ৯৩৯ টাকা। বাণিজ্যিক গ্যাসের (১৯ কেজি) আগে সিলিন্ডার পিছু দাম ছিল ১,৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। এখন হয়েছে ১,৯৯০ টাকা। এর ৫ দিন আগে গত ১ মার্চ বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি ৩১ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল।
আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। জানা গেছে, এর ফলে ভারতেরই অন্তত ৩৭টি জাহাজ আটকে গিয়েছে। ভারতের আমদানি করা গ্যাসের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে, হরমুজ প্রণালী হয়ে। ফলে দীর্ঘদিন গ্যাসের জোগান বন্ধ থাকলে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ এবং দামে তার প্রভাব পড়বেই। প্রত্যাশা মতোই সিলিন্ডার পিছু ৬০ টাকা করে দাম বাড়াল তেল সংস্থাগুলি।
অন্যদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোকে হাতিয়ার করে ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। রবিবার পথে নামছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলাদের কালো শাড়ি পরে হাঁড়ি-কড়াই নিয়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, "গ্যাসের দাম বেড়েছে। মহিলা ভোটারদের নাম কেটেছে। কাল (রবিবার) মিছিল হবে। গ্যাস নাই, রান্না নাই, খাবার নাই! হাঁড়ি, কড়াই, বাটি, ঘটি, হাতা, খুন্তি নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে।... যে ভাবে আইনজীবীরা কালো কোট পরে কোর্টে যান, তেমন কালো শাড়ি পরে প্রতিবাদ জানাবেন। আইনজীবীরা কালো কোট পরেন বিচারের জন্য। আমি সাদা পরব, আপনারা কালো পরুন।"
কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, "এখন বলছে ২১ দিন আগে বুক করতে হবে। আগে কী করছিলেন? ঘুমোচ্ছিলেন? না উপহার নিয়ে বেড়াচ্ছিলেন? গলায় মালা পরে এসেছিলেন দেশকে বেচে দিয়ে। যাঁর ঘরে গ্যাস নেই, ২১ দিন অপেক্ষা করতে হবে? কেরোসিনও নেই যে স্টোভ জ্বালাবে, কোটা বন্ধ। কেন উপহার নেওয়ার আগে, কানমলা খাওয়ার আগে পরিকল্পনা করেননি?"
তিনি আরও বলেন, "এগুলো আগে ভাবা উচিত ছিল না কমরেডদের? ওদের কমরেড বলি। কমরেড শব্দে শ্রদ্ধা করি। বেনামি কমরেডদের নয়।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন