দেশে এলপিজি-র কোনও সঙ্কট নেই – কেন্দ্রের তরফ থেকে বারবার এই দাবি করা হলেও, সরকারের কাজে উল্টো বার্তাই যাচ্ছে আমজনতার কাছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে দেশের গ্রামাঞ্চল এবং দুর্গম এলাকায় দু’টি এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং-এর ব্যবধান ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। সংসদে একথা জানালেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। যদিও শহরাঞ্চলের জন্য এই ব্যবধান ২৫ দিনই রাখা হয়েছে।
এই ঘোষণা করার আগেই বিরোধীদের নিশানার মুখে সংসদে মন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিনের অভাব নেই। পর্যাপ্ত গ্যাসও মজুত রয়েছে। অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি-র উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। গত ৮ মার্চ কেন্দ্রের নির্দেশিকার পর ২৮ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে। এরপরই সিলিন্ডার বুকিং-এর ব্যবধান বাড়ানোর ঘোষণা করেন তিনি।
রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি রুখতেই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। দেশে গ্যাস সঙ্কট দেখা দিতেই কেন্দ্রের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, একটি সিলিন্ডার বুক করার ২১ দিন পর দ্বিতীয়টি বুক করা যাবে। কয়েকদিন পরেই এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সময়ের ব্যবধান বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়। অর্থাৎ ২৫ দিনের আগে নতুন সিলিন্ডার বুক করা যাবে না। বৃহস্পতিবার এই নিয়মেও পরিবর্তন আনা হল। সংসদে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী জানান, ২৫ দিনের ব্যবধান কেবল শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গ্রামে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বুক করার অন্তত ৪৫ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডারটি বুক করা যাবে। বুক করার আড়াই দিনের মাথায় সিলিন্ডার মিলবে। তাঁর কথায়, অনেকেই প্যানিক বুকিং করছেন। এর ফলে বিক্ষিপ্ত সমস্যা হচ্ছে।
এরপর সাংবাদিক বৈঠক করে পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানান, সঙ্কট আঁচ করে বাড়তি গ্যাস যাতে কেউ বুক করে না-রাখেন, তা নিশ্চিত করতেই দুটি গ্যাস বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা বেড়েছে গৃহস্থালি রান্নার গ্যাস। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছে সিলিন্ডার প্রতি ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। কলকাতায় গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের দাম ৯৩৯ টাকা প্রতি সিলিন্ডার। বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ১,৯৯০ টাকা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন