ভোটের ফল প্রকাশের পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কেরালায় নব নির্বাচিত ইউডিএফ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা ঠিক করে উঠতে পারেনি কংগ্রেস। যা নিয়ে কংগ্রেস নেতা কর্মীদের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষও। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউডিএফ-এর অন্যান্য শরিক দলের নেতৃত্বও।
রাজনৈতিক মহলের মতে কংগ্রেসের মধ্যে প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকার কারণেই এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা যায়নি। কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের মতে, দলীয় নেতৃত্বের অন্তঃকলহ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের পক্ষেও কোনও নেতার নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণায় এই দেরির ফলে রাজ্যে কংগ্রেসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
গত পাঁচ বছর ধরে কেরালা কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়েছেন ভি ডি সতীশন। যিনি বিদায়ী কেরালা বিধানসভার বিরোধী দলনেতাও ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই কেরালায় ক্ষমতা দখল করেছে কংগ্রেস। প্রাথমিকভাবে তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে ধরে নেওয়া হলেও এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালও মুখ্যমন্ত্রী হতে ইচ্ছুক বলে জানা যাচ্ছে। অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থনও তাঁর দিকেই।
যদিও বেণুগোপালের ক্ষেত্রে সমস্যা সম্পূর্ণ অন্য। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করতে গেলে আলাপ্পুঝা আসন ছাড়তে হবে কংগ্রেসকে। কংগ্রেসের আশঙ্কা এই আসনে উপনির্বাচন হলে তাতে বিজয়ী হতে পারে বিজেপি। ফলে সেই ঝুঁকি নিতে রাজী নয় কংগ্রেস নেতৃত্বের একটা বড়ো অংশ।
বিশেষ এই পরিস্থিতিতে কেউ কেউ বলছেন আপাতত সামাল দেবার জন্য বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিথালাকে মুখ্যমন্ত্রী করার। যদিও তাতেও এখনও সীলমোহর দেয়নি কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। শনিবার এই বিষয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব বৈঠকে বসলেও দীর্ঘ ৩ ঘণ্টার বৈঠক থেকেও কোনও রফাসূত্র বেরোয়নি। যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুকুল ওয়াসনিক, অজয় মাকেন এবং দীপা দাসমুন্সীর মত শীর্ষ কংগ্রেস নেতৃত্ব।
গতকালের বৈঠক শেষে কংগ্রেসের কেরালার দায়িত্বপ্রাপ্ত দীপা দাসমুন্সী জানিয়েছেন, রবিবারের মধ্যে অবশ্যই কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই নিয়ে অযথা তাড়াহুড়ো করবার কিছু নেই। কারণ সরকার গঠনের জন্য আগামী ২৩ মে পর্যন্ত সময় আছে। কেরালার কংগ্রেস কর্মীদের কাছে তিনি আবেদন করেছেন, বিশেষ এই পরিস্থিতিতে, কংগ্রেস কর্মীদের উচিত অযথা কোনও নাম নিয়ে প্রচার করে জটিলতা আরও না বাড়ানোই উচিত।
কংগ্রেস নেতৃত্বের এই আবেদনের পরেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে দলীয় কর্মীরা তাদের পছন্দের মুখ্যমন্ত্রীর নাম সম্বলিত পোষ্টার, ফ্লেক্স সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন