

কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের প্রাপ্য আর্থিক দাবি আদায়ে সত্যাগ্রহের পথে হাঁটলেন কেরালার বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। সোমবার বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একদিনের ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলনে বসেছেন প্রবীণ সিপিআইএম নেতা বিজয়ন সহ কেরালার অন্যান্য সিপিআইএম নেতৃত্ব। বিজেপির বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের অভিযোগ এনে এই আন্দোলন।
সোমবার সকালে কেরালার থিরুবনন্তপুরমের পালায়ম শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে শুরু হওয়া দিনভর এই বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রীবর্গ, বাম দলের বিধায়কগণ, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন স্বয়ং। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পিনারাই বলেন, এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে রাজ্যের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য ক্ষমতাসীন দল এই ধরণের প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে পিনারাই বিজয়ন বলেন, কেন্দ্রের সরকার চেষ্টা করছে কেরালার অধিকার ছিনিয়ে নিতে। যে অধিকার কেরালা সাংবিধানিকভাবে অর্জন করেছে। কেন্দ্রের এই ধরণের প্রচেষ্টা কোনও গণতান্ত্রিক দেশে কখনই কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়নে কেরালার সাফল্যকে অস্বীকার করতে চাইছে কেন্দ্র।
এদিনের সত্যাগ্রহ অবস্থানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। কেরালার সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেবার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেরালার অগ্রগতি আটকে দেওয়া যায়। কোনও গণতান্ত্রিক দেশে কখনোই এরকম হওয়া উচিত নয়।
এদিনের বিক্ষোভ অবস্থানে রাজ্যের বিরোধী ইউডিএফ-কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপকে পরোক্ষভাবে সমর্থন জানাচ্ছে ইউডিএফ। তিনি কেরালার মানুষ যাতে তাঁদের প্রাপ্য অধিকার পায় তার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে কেরালার কেন্দ্রের কাছ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পাবার কথা। কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কোনও কারণ না দেখিয়ে ৫,৯০০ কোটি টাকা দিতে অস্বীকার করেছে। যার ফলে রাজ্যের পক্ষে অনেক জরুরি খরচ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কেরালার বিরুদ্ধে বিজেপির আনা আর্থিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ খারিজ করে তিনি বলেন, কেরালার আর্থিক সংকট অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা “মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কমে যাওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার কল্যাণমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যয় অব্যাহত রেখেছে।
কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত প্রকল্পগুলোকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ব্র্যান্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর অজুহাতে রাজ্যকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “অনুদান বন্ধ করা এবং ঋণের সীমা কমানোর পরও সন্তুষ্ট না হয়ে কেন্দ্র একতরফাভাবে গ্যারান্টি রিডেম্পশন ফান্ড সম্পর্কিত শর্ত আরোপ করে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা আরও ৩,৩২৩ কোটি টাকা কমিয়ে দিয়েছে।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন