

কেরলের নির্বাচনী ফলাফলকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে জানালেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। গত ৪ঠা মে ফলপ্রকাশের পর থেকে রাজ্যে পালাবদলের বিষয়ের কোনও মন্তব্য করেননি বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা। বৃহস্পতিবার এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলডিএফ-এর জন্য এই ফলাফল ‘সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত’। রাজ্যে সদ্য ক্ষমতায় ফেরা ইউডিএফ-কে অভিনন্দিত করে তিনি আরও বলেন, আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী জোট হিসেবে কাজ করবো।
সংবাদ সংস্থার সূত্র অনুসারে, এদিন কেরালার নির্বাচনী ফলাফল সম্পর্কে বলতে গিয়ে এক বিবৃতিতে সিপিআইএম পলিটব্যুরোর সদস্য বিজয়ন জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনে এই পরাজয় আমাদের সকলকে বিস্মিত করেছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের এই রায় এলডিএফ-এর জন্য এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এলডিএফ জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে।
পিনারাই বিজয়ন জানান, এলডিএফের নির্বাচনে পর্যায়ের প্রধান কারণ বাম-বিরোধী শক্তিগুলোর তৈরি করা রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এই শক্তিগুলোর মধ্যে ছিল ইউডিএফ, বিজেপি এবং গণমাধ্যমের একাংশ। তাঁর মতে, জনগণের একটা অংশ নৈরাজ্যবাদী ও অরাজনৈতিক শক্তিগুলোর ছড়ানো ভুয়ো তথ্যের শিকার হয়েছে। এলডিএফ এই ধরনের তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জোরালো প্রচেষ্টা চালাবে।
কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী ইউডিএফ-এর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সমস্ত সিদ্ধান্তকে এলডিএফ সমর্থন জানাবে। তবে যে কোনও জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদ জানানো হবে।
এর পাশাপাশি রাজ্যের তিন আসনে বিজেপির জয়ী হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজয়ন। বিষয়টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভাজনমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। এলডিএফ কোনও ধরণের সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে আপোস করবে না। কারণ আমাদের মূল নীতি রাজ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বহুত্ববাদ রক্ষা করা। যারা ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ রক্ষার পক্ষে তাদের জন্য এবারের নির্বাচনী ফলাফল যথেষ্ট উদ্বেগের বলেও তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে ১৪০ আসনের মধ্যে এবার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ পেয়েছে ১০২ আসন এবং সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ পেয়েছে ৩৫ আসন। বাকি ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন