কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা পিনারাই বিজয়ন প্রসঙ্গে দলের প্রবীণ নেতা মণিশংকর আইয়ারের সাম্প্রতিক মন্তব্যে প্রবল অস্বস্তিতে কংগ্রেস। কেরালার নির্বাচনের মুখে বর্ষীয়ান নেতার মুখে বিজয়ন স্তুতির পর গত কয়েকদিনে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা অব্যাহত।
গত রবিবার তিরুবনন্তপুরমে কেরালা সরকার আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনার ‘ভিশন ২০৩১’-এ যোগ দিয়ে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মণিশংকর আইয়ার বলেন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের উপস্থিতিতে আমি বলতে চাই, আমি নিশ্চিত তিনিই কেরালার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন। এই বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি কেরালার বাম সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পিনারাই বিজয়নের প্রশংসার পাশাপাশি তিনি কেরালাকে দেশের সেরা পঞ্চায়েতি রাজ রাজ্য হিসেবে শক্তিশালী করে তোলার জন্য রাজ্য সরকারকে অভিনন্দিত করেন।
প্রাক্তন পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রী মণিশংকর আইয়ার বলেন, পঞ্চায়েতি রাজের ক্ষেত্রে কেরালা শীর্ষে এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর স্বপ্ন পূরণ করেছে। “মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি এবং আপনাকে কংগ্রেসের ফেলে আসা ব্যাটন তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। কেরালার উন্নতি হোক।”
রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে আইয়ার জানান, “আমি চাই কংগ্রেস জিতুক, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না যে তা হবে। কারণ কংগ্রেস নেতারা বিভক্ত। তারা কমিউনিস্টদের চেয়েও একে অপরকে বেশি ঘৃণা করে।”
নির্বাচনমুখী কেরালাতে দলের প্রবীণ নেতার মুখে বিরোধী নেতৃত্বের স্তুতি শুনে তড়িঘড়ি এই মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয় কংগ্রেস এবং কংগ্রেস নেতা পবন খেরা জানান দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণিশংকর আইয়ারের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। বর্তমানে তাঁর বক্তব্য এবং মতামত একান্তই তাঁর নিজস্ব। এবার কেরালার নির্বাচনে কংগ্রেসই জয়ী হবে বলেও জানানো হয়।
যদিও তাতে বিতর্ক থামেনি। রবিবারের এই বক্তব্যের পর সোমবার ফের দলের কেরালা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন মণিশংকর আইয়ার। তিনি পবন খেরার মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, মল্লিকার্জুন খাড়গে তাঁকে এখনও পর্যন্ত কোনও বহিষ্কারের চিঠি পাঠাননি। তাই তিনি কংগ্রেসেই আছেন। পাশাপাশি দলীয় নেতা শশী থারুর, কে সি বেণুগোপাল, রমেশ চেন্নিথালার উদ্দেশ্যেও তির্যক মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, শশী থারুর ‘নীতিহীন ক্যারিয়ার সর্বস্ব’, কে সে বেণুগোপাল ‘উদ্ধত’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর আক্রমণ থেকে কেরালা কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথালাও বাদ যাননি।
বুধবার এই বিতর্কে নতুন করে সংবাদমাধ্যমের সামনে মণিশংকর আইয়ার বলেন, তিনি একজন গান্ধীবাদী, একজন নেহেরুবাদী এবং একজন রাজীববাদী। কিন্তু কোনোভাবেই তিনি রাহুলবাদী নন। কারণ রাহুল গান্ধী তাঁর চেয়ে বয়সে অনেক ছোটো এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তিনি কখনও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হননি।
তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেকে ইন্দিরাবাদী বলেননি, কারণ ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করে গণতন্ত্রকে স্বৈরাচারে রূপান্তরিত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। যাতে আমার সম্মতি ছিল না।
লোকসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি আমার চেয়ে ৩০ বছরের ছোটো। তাঁর সঙ্গে আমার রাজনৈতিক কাজ করার কোনও সুযোগ হয়নি। সেই কারণেই আমি রাহুলবাদী নই।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশ্যে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে কংগ্রেস তাঁকে সাসপেন্ড করে। একবছর পরে তাঁর সাসপেনশন উঠে গেলেও তাঁকে কংগ্রেসে আর কোনও পদ দেওয়া হয়নি।
মণিশংকর আইয়ারের এই মন্তব্য প্রসঙ্গে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানান, “বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেরালার অগ্রগতি সম্পর্কে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মণিশংকর আইয়ারের মন্তব্য গর্বের বিষয়। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে, আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে উন্নয়ন এবং জনকেন্দ্রিক পরিকল্পনায় কেরালা বিশ্বের কাছে একটি মডেল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন