দক্ষিণপন্থী শক্তি মিথ্যাচার করে সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। কেরালায় বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সোমবার সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানালেন রাজ্যের বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তিনি আরও বলেন, রাজ্যকে উন্নয়নের পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আগামী ৯ এপ্রিল কেরালার মানুষের রায় চাইছে এলডিএফ।
তিরুভল্লার ওই সাংবাদিক সম্মেলনে কেরালার বিদায়ী সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, রাজ্যের জন্য উন্নয়ন এবং জনকল্যাণই হল মুখ্য বিষয়। পাশাপাশি, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অটুট রেখে মানুষের অগ্রগতি এবং কল্যাণের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। কারণ বর্তমান সময় এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
কংগ্রেস এবং বিজেপির নব উদারবাদী নীতির কড়া সমালোচনা করে বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা বলেন, দুই দলই কর্পোরেটদের পক্ষ নিয়ে চলে। কিন্তু কেরালায় বিগত দশ বছরে দেখা গেছে এক মানবিক বিকল্প মডেল। যে মডেল ইতিমধ্যেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং বিশ্বের নজর কেড়েছে।
রাজ্যের পূর্বতন ইউডিএফ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কংগ্রেস আমলে রাজ্য সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। দুর্নীতিগ্রস্ত শাসন ব্যবস্থা, নিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া, কৃষি ও শিল্পে পেছিয়ে পড়ার মত একাধিক সমস্যার গ্রাসে চলে গেছিল কেরালা।
সিপিআইএম পলিটব্যুরোর সদস্য দাবি করেন, কংগ্রেস পরিচালিত ইউডিএফ সরকারের আমলে উচ্চশিক্ষাখাতে কোনও উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নেমে গেছিল রাজ্যের শিক্ষার মান। এমনই এক অন্ধকারময় পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে নতুন দিশা দেখিয়েছে বাম সরকার। এই পর্যায় থেকে এলডিএফ সরকার কেরালা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করেছে।
বিজয়ন জানান, ২০১৬ সালে ইউডিএফ ক্ষমতা থেকে চলে যাবার সময় রাজ্যের স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ছিল ৩৩৫ কোটি টাকা। যা বিগত কয়েক বছরে বাম সরকারের আমলে ৩০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন জানান, কেরালার মানুষ বিশ্বাস করে যে রাজ্যের এলডিএফ সরকার কেরালাকে নতুন পথে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ ফের বাম শক্তিকে ফিরিয়ে আনবে এবং এলডিএফ কেরালায় নির্ণায়ক জয় লাভ করবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন