

কেরালায় মনোনয়ন না পেয়ে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিলেন সিপিআই-এর বর্তমান বিধায়ক সি মুকুন্দন। রবিবার সিপিআই-এর প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই সোমবার তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এবারের কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে মনোনয়ন দেয়নি সিপিআই। গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ত্রিশুরের নাট্টিকা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। সম্ভবত এই কেন্দ্র থেকেই এবার তিনি বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন।
সূত্র অনুসারে, দ্বিতীয়বারের জন্য মনোনয়ন না পেয়ে নাট্টিকার সিপিআই বিধায়ক প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি আগ্রহ না দেখানো হলে তিনি বিজেপির দ্বারস্থ হন। জানা গেছে, নাট্টিকার কংগ্রেস কর্মীরা সি মুকুন্দন-এর কংগ্রেসে যোগদানের খবর পেয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
গতকালই সিপিআই ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবার কথা জানিয়েছেন মুকুন্দন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি বিজেপি নেতৃত্বের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখছি। তাঁরাই আমার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ স্থির করবেন। আমাকে তারা নাট্টিকা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করলে আমি ওই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।
মুকুন্দনের বিজেপিতে যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন কেরালার শীর্ষ স্থানীয় বিজেপি নেতা বি গোপালকৃষ্ণান। তিনি বলেন, মুকুন্দনের বিজেপিতে যোগদানে বিজেপি শক্তিশালী হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে পরপর দু’জন সিপিআই নেতা বিজেপিতে যোগদান করলেন। সম্প্রতি দু’বারের সিপিআই বিধায়ক কে অজিত বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও তিন বারের প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক এস রাজেন্দ্রনও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে মুকুন্দনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না জানতে পেরে প্রথমে তিনি নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর এই ঘোষণার পরেই সিপিআই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
উল্লেখ্য, নাট্টিকা কেন্দ্র থেকে এবার বাম গণতান্ত্রিক জোটের সিপিআই প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গীতা গোপী। প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পরেই মুকুন্দন সাংবাদিকদের জানান টাকার বিনিময়ে গীতা গোপীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সিপিআই বিধায়ক মুকুন্দনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জমা হচ্ছিল। দলের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখবার অভিযোগ উঠেছিল। দিনের পর দিন তিনি দলীয় বৈঠকেও যোগ দেননি।
২০২১ কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে নাট্টিকা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী সুনীল লালুরকে ২৮,৪৩১ ভোটে পরাজিত করেছিলেন সিপিআই প্রার্থী সি মুকুন্দন। ওই কেন্দ্রে বিজেপি পেয়েছিল ৩৩,৭১৬ ভোট। বিজেপির আশা, মুকুন্দনকে প্রার্থী করে সিপিআই-এর ভোট ভাঙানো গেলে ওই কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী জয়ী হতে পারে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন