

কর্মী সমর্থকদের কিছু অংশ মনক্ষুণ্ণ হলেও কেরালার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্র বদলাচ্ছে সিপিআইএম নেত্রী কে কে শৈলজার। আসন্ন কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর কেন্দ্র মাত্তান্নুর-এর বদলে কান্নুর জেলার পেরাভুর আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। সিপিআইএম কেরালার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন দলের শক্ত ঘাঁটি মাত্তান্নুর থেকে সরিয়ে তাঁকে কঠিন কেন্দ্র পেরাভুর-এ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও।
তবে দলের ভেতরে এবং বাইরে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও জানা যাচ্ছে, এল ডি এফ-এর প্রধান শরিক সিপিআইএম চায় ইউডিএফ-এর হাত থেকে পেরাভুর আসন নিজেদের দখলে নিতে। তাই অভিজ্ঞ কে কে শৈলজাকে ওই কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। যদিও দলের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেকেই। অনেকেরই মতে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কে কে শৈলজাকে।
পেরাভুর কেন্দ্র থেকেই অতীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন কে কে শৈলজা। ২০০৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে তিনি জয়লাভ করেছিলেন। যদিও ২০১১ সালে তিনি এই কেন্দ্রে ৪০০০ ভোটে পরাজিত হন। বর্তমানে এই কেন্দ্রের বিধায়ক কেরালা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফ। ২০১১ সাল থেকে একটানা তিনি এক কেন্দ্রের বিধায়ক। ১৯৭৭ সালে এই কেন্দ্র গঠিত হবার পর থেকে শেষ ১০টি বিধানসভা নির্বাচনের ৮ টিতেই জয়লাভ করেছে ইউডিএফ। এরকম কঠিন একটি আসনে কেন কে কে শৈলজাকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েই।
২০১১ সালে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের সানি জোসেফ জয়ী হয়েছিলেন ৩,৪৪০ ভোটে। ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে সানি জোসেফ জয়ী হন ৭,৯৮৯ ভোটে এবং ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে তিনি জয়ী হন ৩,১৭২ ভোটে। অন্যদিকে মাতান্নুর কেন্দ্রে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কে কে শৈলজা জয়ী হয়েছিলেন ৬০,৯৬৩ ভোটে। যা এযাবৎ কালে এই কেন্দ্রের সর্বাধিক ব্যবধান। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে কে কে শৈলজা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কুথুপারাম্বা কেন্দ্র থেকে। এই কেন্দ্রে সেবার তিনি জয়লাভ করেন ১২,২৯১ ভোটে। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে জয়লাভ করেন বাম শরিক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আরজেডি। বাম জোটের প্রার্থী হিসেবে আরজেডি জয়লাভ করে ৯,৫৪১ ভোটে।
কেরালার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে কেরালার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পেরাভুর কেন্দ্রে যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে আছে কংগ্রেস। বিশেষ করে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হবার পর এই কেন্দ্রে তাঁর সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।
কে কে শৈলজার কেন্দ্র বদলের বিষয়ে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, কে কে শৈলজাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্যই তাঁর কেন্দ্র বদলে দেওয়া হচ্ছে। বিগত লোকসভা নির্বাচনেও তিনি হারের সম্মুখীন হয়েছিলেন। সেবার ভাদাকারা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি কংগ্রেসের কাছে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৫০৬ ভোটে পরাজিত হন। এবার পেরাভুর কেন্দ্র থেকে শৈলজার জয়লাভ করা খুবই কঠিন। যার কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, একদিকে এবার কেরালায় ইউডিএফ-এর পক্ষে হাওয়া আছে এবং কেরালার খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর সমর্থনও এবার অনেকটাই ইউডিএফ-এর দিকে। পেরাভুর কেন্দ্রের নির্বাচনে খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীই নির্ণায়ক ভূমিকা গ্রহণ করে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন