

ক’দিন আগেই যে ‘জেন-জি’-দের নিয়ে চরম কটাক্ষ করেছিলেন এবার সেই ‘জেন-জি’-দেরই প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। ‘জেন-জি’-দের নিয়ে তাঁর এই হঠাৎ মতবদলের কারণ হিসেবে অনেকেই দিন দুয়েক আগে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের একটি মন্তব্যকে দেখছেন। যেখানে মোহন ভাগবত ‘জেন-জি’-দের প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন।
সিজেপি-র সাম্প্রতিক আন্দোলন এবং তার জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর বিজেপির একাধিক নেতা জেন-জি-দের কটাক্ষ করেন। যার মধ্যে ছিলেন কঙ্গনাও। সিজেপি আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিজেপির এই অবস্থান দেশ জুড়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে।
যদিও গত বৃহস্পতিবার মুম্বাইতে এক অনুষ্ঠানে জেন-জি-দের প্রশংসা করেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জেন-জি-রা কোনও প্রতিবাদ জানাচ্ছে মানেই তাঁরা দেশদ্রোহী নয়। তাঁরা আমাদেরই লোক। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।
জেন-জি-দের উদ্দেশ্যে আরএসএস প্রধানের এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ হিসেবেই দেখেছে। মোহন ভাগবতের বক্তব্য নিয়ে শুক্রবার সংসদ চত্বরে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘জেন-জি-দের মোহন ভাগবতজীর সার্টিফিকেটের দরকার নেই।’
যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন চলাকালীন আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ‘গাটার জেনারেশন’ বা ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলে সমালোচনা করেছিলেন বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। হিমাচল প্রদেশের মান্ডির সাংসদের সেই বক্তব্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার নিজের বক্তব্য থেকে সরে গিয়ে সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা গেল কঙ্গনার গলায়।
শুক্রবার সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কঙ্গনা রানাওয়াত আরএসএস প্রধানের সুরেই জানান, ‘জেন-জি-রা আমাদের দেশের শক্তি এবং আমাদের জাতির জন্য বিরাট সম্পদ। জেন-জি আমাদের দেশের শক্তি। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে আমাদের যুবসমাজ দ্রুত আমাদের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের দূত হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।’
সিজেপি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে কঙ্গনা জানিয়েছিলেন, “ওরা যেভাবে কথা বলছে এবং যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে, আমার জীবনে কখনও প্রতিটি ফ্রেমে সবকিছু একসাথে এত কুরুচিপূর্ণ এবং এত অমার্জিত দেখিনি। ছিঃ, এদের জন্ম দিচ্ছে আর বড় করছে কে?” তিনি আরও বলেন, “তোমরা নিজেদের আরশোলা বলো এবং দেখতে বা আচরণেও তোমরা তাদের মতোই, কারণ এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য বা বৈসাদৃশ্য নেই, কেবল পৃথিবীকে তোমাদের নোংরামি, আবর্জনা এবং কদর্যতার শিকার করছ।”
কঙ্গনা রানাওয়াতের এই মন্তব্যের উত্তরে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, “কঙ্গনা রানাওয়াতকে তাঁর নিজের দলই গুরুত্ব দেয় না। তাহলে আমরা তাঁকে গুরুত্ব দেব কেন? আমার মনে হয় না জেন জি, জেন আলফা বা তরুণ প্রজন্মের কেউই তাঁকে গুরুত্ব দেয় বা তাঁর কথা শোনে।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন