JNU: নিয়োগ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ - উপাচার্যর অপসারণের দাবি JNU ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠনের

People's Reporter: জেএনইউ শিক্ষক সংগঠন দাবি করেছে, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বারবার এইসব অনিয়মের বিষয়ে আপত্তি জানালেও তাতে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
দিল্লি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন
দিল্লি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন ছবি, সাংবাদিক সম্মেলনের ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট
Published on

দিল্লীর জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুড়ি পণ্ডিতের অপসারণের দাবি জানালো জেএনইউ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (JNUTA) এবং জেএনইউ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (JNUSU)। ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষক সংগঠনের উপাচার্যর বিরুদ্ধে নিয়োগ ও অন্যান্য বিষয়ে বেনিয়মের অভিযোগ এনেছে। দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে জেএনইউ-র পরিদর্শক হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং শিক্ষা মন্ত্রক ও ইউজিসি-কে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে।

বুধবার দিল্লি প্রেস ক্লাবে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জেএনইউ-র ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষক সংগঠন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, ক্যারিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট স্কিম-এর (CSS) অধীনে পদোন্নতি, ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল-এর (IQAC) কাজকর্ম এবং নিয়োগ সংক্রান্ত ফলাফলের পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

জেএনইউ শিক্ষক সংগঠন দাবি করেছে, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বারবার এইসব অনিয়মের বিষয়ে আপত্তি জানালেও তাতে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, ২০২২-এর ফেব্রুয়ারির পর থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পণ্ডিত।

সম্প্রতি দ্য রিপোর্টার্স কালেক্টিভে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, যোগ্যতার বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ না করার ফলে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রাথমিকভাবে প্রত্যাখ্যাত প্রার্থীদের আবার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে এনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দ্য রিপোর্টার্স কালেক্টিভের তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অন্তত ৭টি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়-বিশেষজ্ঞরা যাদের প্রাথমিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করেছিলেন, তাদেরই পরবর্তীতে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে আরও অভিযোগ করা হয় যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির তৈরি করা সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও (শর্টলিস্ট) বৃদ্ধি ঘটানো হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদকালে ২২০ জনেরও বেশি শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে; যদিও বলা হয়েছে যে এর মধ্যে কেবল অল্প সংখ্যক নিয়োগের বিষয়টিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে, কারণ জেএনইউ (JNU) এখন আর সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করে না।

গতকাল দুই সংগঠনের সাংবাদিক সম্মেলনের পরেই এই বিষয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস। দলীয় নেতা পবন খেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় রিপোর্টার্স কালেক্টিভের তদন্তমূলক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন।

দিল্লি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন
JNU: দলিতদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যর অভিযোগ; JNU উপাচার্যর পদত্যাগ চেয়ে মিছিল, ছাত্র সংঘর্ষ
দিল্লি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন
JNU: 'মাঝারি মানের' নিয়োগ, ছাত্রদের ক্ষতি হবে - JNU উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে সরব বিজেপি সাংসদ

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in