

দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (JNU) আবারও সংঘর্ষে জড়ালো দুই গোষ্ঠী। রবিবার গভীর রাতে বাম ছাত্র সংগঠনের এক কর্মসূচি চলাকালীন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। বাম ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, দক্ষিণপন্থী ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) পক্ষ থেকে এই হামলা চালানো হয়েছে। গতকালের ছাত্র সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
কী ঘটেছে জে এন ইউ-তে?
জেএনইউ-এর উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুড়ি পণ্ডিতের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং তাঁর পদত্যাগ দাবি করে রবিবার রাতে এক মিছিলের ডাক দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন। সবরমতী টি পয়েন্ট থেকে শুরু করে ইষ্ট গেট পর্যন্ত এই ‘সমতা পদযাত্রা’ চলাকালীনই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিবদমান দুই ছাত্র সংগঠনের কী বক্তব্য?
গতকালের ঘটনা সম্পর্কে বাম ছাত্র সংগঠন আইসা-র অভিযোগ, এবিভিপির কর্মীরা মিছিলরত বাম ছাত্রদের ওপর পাথর ছুঁড়েছে এবং আক্রমণ করেছে। যার ফলে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছে। যদিও বাম ছাত্র সংগঠনের আনা এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবিভিপির কর্মীরা জানিয়েছে, তাদের ওপরেই আক্রমণ করেছে বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা এবং তাদের ব্যাপক মারধোর করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কী জানিয়েছে?
এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি বা কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। যদিও শিক্ষার্থীদের একাংশ জানিয়েছে ক্যাম্পাসে এখনও ভয়ের পরিবেশ আছে।
কী দাবিতে বাম ছাত্র সংগঠনের প্রতিবাদ?
বাম ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক পডকাস্টে দলিতদের বিরুদ্ধে স্পষ্টতই বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুডি পণ্ডিত, যেখানে তিনি তাদের “স্থায়ী শিকার” (Permanent Victimhood) বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি ইউজিসি সাম্প্রতিক সমতা বিষয়ক নির্দেশিকাগুলিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ (Unnecessary) এবং ‘অযৌক্তিক’ (Irrational) বলেও অভিহিত করেন। যা গভীরভাবে সংবেদনশীল এবং জে বক্তব্যে তাঁর বর্ণবিদ্বেষী মানসিকতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়েছে। এই মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং অবিলম্বে উপাচার্যকে এই মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
নিজের বক্তব্য প্রসঙ্গে কী জানিয়েছেন উপাচার্য?
যদিও তাঁর বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিকৃত’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপাচার্য শান্তিশ্রী পণ্ডিত। রবিবার সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু মানুষ তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করেছে।
কী বলেছিলেন উপাচার্য শান্তিশ্রী পণ্ডিত?
সম্প্রতি এক পডকাস্টে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্ণ-ভিত্তিক বৈষম্য রোধ করার লক্ষ্যে ইউজিসির প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের সমতা (বৈষম্য বিরোধী) বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করার সময় উপাচার্যের মন্তব্য থেকে এই বিতর্কের সূত্রপাত। অনলাইনে প্রচারিত একটি ক্লিপে তাকে বলতে শোনা গেছে যে, দলিত এবং কৃষ্ণাঙ্গরা “স্থায়ীভাবে বৈষম্যের শিকার হয়ে বা বৈষম্যের কার্ড খেলে এগোতে পারবে না”। তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন