দিল্লীর যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনের চাপে ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) ইস্তফা দিতে বাধ্য হবার পর আরও একবার আন্দোলন করেই জয় ছিনিয়ে আনলেন ছাত্ররা। ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন সোমবার রাতে জানিয়েছেন রাজ্য সরকার ঝাড়খন্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন-কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল পরীক্ষা (JSSC-CGL) বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, টেকনোক্রেটিক ডায়নামোস প্রাইভেট লিমিটেড-এর (TDPL) সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছু, অর্থাৎ পরিচালিত পরীক্ষা, প্রকাশিত ফলাফল, নির্বাচিত বা অংশগ্রহণকারী প্রার্থী এবং এই বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত অন্যান্য সমস্ত কার্যক্রম বাতিল করা হচ্ছে।
এদিনই মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এই বিষয়ে ২০১৪ সাল থেকে হওয়া ছোটো বড়ো সব ভুলের বিষয়ে বড়ো আকারের তদন্তের ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে ঝাড়খন্ড সরকার একটি পরীক্ষা সংস্কার কমিটি গঠন করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
আন্দোলনরত ছাত্রদের মূল অভিযোগ ছিল, অতীতে জালিয়াতি এবং পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য কালো তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও টিডিপিএল-কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কালো তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই সংস্থাকেই জেপিএসসি এবং জেএসএসসি পরীক্ষা ও নিয়োগ সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
গত ২৪ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন ঝাড়খন্ডের ছাত্রছাত্রীরা। লাগাতার চলা এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে অনশন চালাচ্ছিলেন দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের ঘোষণার পর তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা এবং আমাদের দাবি পূরণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। সরকার এই চক্রের মূলে পৌছানের জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা ছাত্ররা এই তদন্তকে এবং দুর্নীতিকে একেবারে সমূলে ধ্বংস করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে যাবার পাশাপাশি বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হলেই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন