
জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি এবং রামবান জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একটানা ভারী বৃষ্টি এবং ধসের ফলে অন্তত পাঁচজন শিশু-সহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে সাতজন একই পরিবারের। জলের তোড়ে ভেসে নিখোঁজ বহু।
রেয়াসি জেলায় শুক্রবারের ধসে ভেঙে পড়ে বাড়ি। রাতভর পাঁচ শিশু-সহ ওই দম্পত্তি বাড়িতেই আটকে ছিল। শনিবার সকালে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়। মৃতরা হলেন - নাজির আহমেদ (৩৮), তাঁর স্ত্রী ওয়াজিরা বেগম (৩৫), তাঁদের ছেলে বিলাল আহমেদ (১৩), মোহাম্মদ মুস্তাফা (১১), মোহাম্মদ আদিল (৮), মোহাম্মদ মোবারক (৬) এবং মোহাম্মদ ওয়াসিম (৫)।
অন্যদিকে, শনিবার সকালে রামবানের রাজগড় তহসিলে মেঘভাঙা বৃষ্টি থেকে হওয়া হড়পা বান ভাসিয়ে নিয়ে যায় দু'টি বাড়ি এবং একটি স্কুল। জানা গেছে, জলের তোড়ে ভেসে গেছেন পাঁচজন। যার মধ্যে চারজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও একজন এখনও নিখোঁজ। স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার বিকেল থেকেই টানা বৃষ্টি হচ্ছিল ওই এলাকায়। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আচমকা হড়পা বান নামে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ভেসে গিয়েছে আশেপাশের অঞ্চলের বহু বাড়ি। ঘটনার পরেই দ্রুত উদ্ধারে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি অস্থায়ী ত্রাণ কেন্দ্রও চালু করা হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টির ফলে গত ৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে জম্মুর কাটরা থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে ট্রেন পরিষেবা। পাশাপাশি, বন্ধ রয়েছে শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক। এই জাতীয় সড়ক কাশ্মীরের সঙ্গে সংযোগের মূল রাস্তা। এছাড়াও একাধিক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।
গত দু'সপ্তাহ ধরে জম্মু অঞ্চলে মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং ধসের জেরে এখনও পর্যন্ত ১১৫ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বার্ষিক মাচাইল মাতা যাত্রার সময় কিশতোয়ারের পাদ্দারের চিশোটি গ্রামে মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে কমপক্ষে ৬৫ জন তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের কাছে ভূমিধসে ৩০ জন তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আকস্মিক বন্যার জেরে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা বৃষ্টি চলবে জম্মুর পাহাড়ি এলাকায়।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন