
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ এবং চামোলিতে ফের মেঘভাঙা বৃষ্টি। অল্প সময়ে অত্যাধিক বৃষ্টি হওয়ায় বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকে চাপা পড়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামী জানিয়েছেন, রাস্তায় ধস নামার কারণে অনেকে আটকে পড়েছেন। ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
মেঘভাঙা বৃষ্টির প্রভাবে উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অত্যধিক বৃষ্টির ফলে রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অলকানন্দা এবং মন্দাকিনী নদীর সঙ্গমস্থলে জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। কেদারনাথে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে একটি সেতু। বৃষ্টির ফলে ক্রমশ নদী ও ছোট নালাগুলি থেকে জল ঢুকছে লোকালয়ে।
বৃষ্টির ফলে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রুদ্রপ্রয়াগ জেলার বাসুকেদার এলাকা এবং চামোলি জেলার দেবল এলাকা। দেবলের মোপাটা এলাকায় এক দম্পত্তি নিখোঁজ। এছাড়া আরও এক দম্পত্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অত্যাধিক বৃষ্টির জেরে আহত দম্পত্তির গোয়ালঘরও ধসে গিয়েছে। জানা গেছে, এর ফলে ৫ থেকে ২০টি পশু চাপা পড়েছে। ডুবে গিয়েছে রুদ্রপ্রয়াগের হনুমান মন্দির।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব এবং জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আটকে পড়াদের ত্রাণ দেওয়া শুরু করেছে সরকার।
এর আগে গত সপ্তাহে উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়। যার জেরে ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ি। জানা গেছে, ধারালি বাজার এলাকা এবং ধারালি তহসিল কমপ্লেক্স ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায়। এই মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম)-এর সরকারি বাসভবন, বহু দোকানপাট এবং যানবাহন সহ অনেক আবাসিক এলাকাও জলের নীচে চাপা পড়ে যায়।
জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে চলতি মরসুমে অত্যাধিক বৃষ্টির পাশাপাশি একাধিক মেঘ ভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বান, ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এই সমস্ত ঘটনায় মোট কয়েকশ প্রাণহানি হয়েছে। কয়েকশ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। পানিয় জলের সঙ্কট দেখা গিয়েছে।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন