
আরএসএস সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagawat) বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালো সিপিআইএম পলিটব্যুরো (CPIM Polit Bureau)। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সিপিআইএম পলিটব্যুরো জানিয়েছে, মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। তাঁর মন্তব্য সরাসরি দেশের সংবিধানের প্রতি অবমাননা এবং দেশের বর্তমান আইনের লঙ্ঘন বলেও মনে করে সিপিআইএম। দেশের মানুষকে আরএসএস-এর এই বিভেদমূলক নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিপিআইএম (CPIM)।
গতকালের বিবৃতিতে সিপিআইএম জানিয়েছে, মোহন ভাগবতের মন্তব্য মথুরা এবং কাশী বিতর্ককে খুঁচিয়ে তোলার চেষ্টা। তিনি দাবি করেছেন যে ভ্রাতৃত্বের পূর্বশর্ত হিসেবে মুসলিমদের এই দুই জায়গার মসজিদ ছেড়ে দিলেই সম্প্রীতি আসবে।
পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর, যে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি আরএসএস যুক্ত ছিল, সংসদ ১৯৪৭ সালের আগে যে কোনো ধর্মীয় স্থান যে অবস্থায় ছিল তার পরিবর্তন নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করে। এই আইন অনুসারে মথুরা এবং কাশীতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে।
পলিটব্যুরো আরও জানিয়েছে, এই ধরণের দাবির মূল লক্ষ্য সাম্প্রদায়িক আবেগ উসকে দিয়ে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং ধর্মের ভিত্তিতে সমাজের মেরুকরণ করা। যখনই ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সমস্যা চেপে বসে তখনই তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে সাম্প্রদায়িক বিভেদ উসকে দেয়। এটাই আরএসএস (RSS) এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অভ্যাস। আসন্ন নির্বাচনের আগে বিজেপি সরকারকে জনরোষ থেকে বাঁচাতে মোহন ভাগবত এই মন্তব্য করেছেন।
সিপিআইএম-এর ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চড়া হারে মার্কিন শুল্ক, দেশের দুর্বল অর্থনীতি, কৃষক ও শ্রমিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নির্বাচনী অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষকে হতাশ করে তুলেছে। এই অবস্থায় যে কোনো মূল্যে আরএসএস-এর বিভেদকামী নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। যে কোনো মূল্য ভারতের ঐক্য ও অখন্ডতা রক্ষা করতে হবে। এর জন্য সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার আরএসএস সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত এক বক্তৃতায় জানিয়েছেন, রাম মন্দিরই একমাত্র আন্দোলন যা সঙ্ঘ সমর্থন করেছে এবং আগামী দিনে কাশী ও মথুরা পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে সঙ্ঘ সমর্থন করবে না। যদিও এর পরেই তিনি বলেন, আরএসএস স্বয়ংসেবকরা স্বাধীনভাবে এই ধরণের যে কোনও আন্দোলনে যোগ দিতেই পারেন।
নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত তিন দিনের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বৃহস্পতিবার মোহন ভাগবত বলেন, “আমাদের সব জায়গায় শিবলিঙ্গ বা মন্দির খোঁজা উচিত নয়, এবং যদি আমি, একটি হিন্দু সংগঠনের প্রধান হিসেবে এই ঘোষণা করছি, সেক্ষেত্রে অন্য পক্ষেরও উচিত এই স্থান তিনটিকে ছেড়ে দেওয়া। এটি ভ্রাতৃত্বের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ।” এর আগেই তিনি জানিয়েছিলেন হিন্দুদের মনে অযোধ্যা, কাশী এবং মথুরা সম্পর্কে অন্য ভাবাবেগ আছে।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন