আচমকাই বিজেপি ছাড়লেন দলের অন্যতম সর্বভারতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুণাওয়ালা। ব্যক্তিগত কারণেই তিনি দল ছাড়ছেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গেছে। যদিও শেহজাদ পুনাওয়ালা নিজে বা বিজেপির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। কিন্তু যেভাবে তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেল বায়োতে বদল করেছেন এবং 'বিজেপি'র কথা মুছে দিয়েছেন তা দল ছাড়ার ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে সাম্প্রতিক কোনও ঘটনায় তাঁর সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মনোমালিন্যের কারণেই আচমকাই বিজেপি ছাড়লেন। ৩৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের বিজেপি ত্যাগ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও তিনি নিজে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য এখনও করেননি।
নীট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টি সহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দিতে বাধ্য হওয়ার ঘটনার পর শেহজাদ পুনাওয়ালার বিজেপি ছাড়ায় গুঞ্জন তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। বিভিন্ন ইস্যুতে দলের বক্তব্য তুলে ধরে বিরোধীদের আক্রমণ করতেও পিছপা হতেন না।
অতীতে কংগ্রেস ঘরানার রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন শেহজাদ পুনাওয়ালা। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর মাধ্যমেই তাঁর রাজনীতির জগতে প্রবেশ। এরপর কংগ্রেস সংগঠনের বিভিন্ন ধাপে তিনি একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবেই কাজ করেছেন। যদিও ২০১৭ সালে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসের মনোমালিন্য হয় এবং তিনি কংগ্রেস ছাড়েন। এর বেশ কিছুদিন পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে তাঁকে দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র পদ দেওয়া হয়।
এদিন ইস্তফা দেবার সাথে সাথেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) বায়োতেও বদল করেছেন শেহজাদ পুনাওয়ালা। সেখান থেকে ‘বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র’ পরিচয় মুছে দিয়েছেন। তাঁর নতুন বায়োতে লেখা আছে, ‘রিলিজিওন, ইসলাম, কালচার, হিন্দু আইডিওলজি-ভারতীয়, লেখক – জিএসটি কি যাত্রা, লাইফলং ফলোয়ার অফ পিএম নরেন্দ্র মোদী।”
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শেহজাদ পুনাওয়ালা। এদিনও ২০২৪-এর এক পুরোনো পডকাস্টের ভিডিও তিনি শেয়ার করেছেন, যেখানে জানিয়েছিলেন সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। এদিন পুরোনো সেই ভিডিও পোষ্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘দু’বছর দেরি হয়ে গেছে।’
শেহজাদ পুনাওয়ালার এই ঘটনায় অনেকেই তাঁর ভাই তেহসিন পুনাওয়ালার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। কিছুদিন ধরেই তাঁর ভাই, রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেহসিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁকে সরাসরি ছাত্রদের সমর্থনে কথা বলতে দেখে গেছে। এছাড়াও কেন্দ্রের ই-২০ ইথানল নিয়ে বিতর্কেও তিনি গত ৫ জুলাই যন্তর মন্তরে এক বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন