ইন্দোরে দূষিত জল পান করে ১৩ জনের মৃত্যু ও শতাধিক অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলো কংগ্রেস। কংগ্রেসের বক্তব্য অনুসারে গত কয়েকদিনে ইন্দোরের ভাগীরথীপুরা অঞ্চলে বিষাক্ত জল পান করে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও সরকারের দাবি ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারী বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দোষারোপ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করেছেন।
কংগ্রেস নেতা জিতু পাটোয়ারীর নিশানা রাজ্যের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের দিকে। যে অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে সেটি তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। বুধবারই এই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তাদের প্রতি আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী।
পাটোয়ারীর অভিযোগ, মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতাকে এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেবার পরিবর্তে ঔদ্ধত্য দেখান। বিজেপি নেতার ওই ভিডিও ক্লিপ দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনরা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। জিতু পাটোয়ারী আরও বলেন, রাজ্য সরকার মৃতের সংখ্যা গোপন করছে। এই ঘটনায় আসলে যত জনের মৃত্যু হয়েছে তার চেয়ে অনেক কম করে বলা হচ্ছে।
যদিও এর কিছুক্ষণ পর কৈলাস বিজয়বর্গীয় নিজের এক্স হ্যান্ডেল (পূর্বতন ট্যুইটার) থেকে ঘটনার জন্য ক্ষমা চান এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, গত দু’দিন ধরে তিনি এবং তাঁর দল নিদ্রাহীনভাবে এই সমস্যা মেটানোর জন্য কাজ করে চলেছেন।
ইন্দোরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এক জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে রাজ্য প্রশাসন এবং ইন্দোর পুর কর্পোরেশনকে তাৎক্ষণিকভাবে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং ২ জানুয়ারির মধ্যে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওইদিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় ১৪৯ জনের অসুস্থতার খবর জানানো হলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি এই ঘটনায় কমপক্ষে ১১০০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে ভাগীরথপুরা অঞ্চলে নর্মদা পানীয় জল যাবার লাইনের ওপরেই একটি নর্দমা তৈরি করা হয়েছিল। যেখান থেকে লিকেজ হয়ে দূষিত জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশে সেই জল বিষাক্ত হয়ে গেছে। জানা গেছে, তদন্তকারী আধিকারিকরাও কীভাবে পানীয় জলের লাইনের ওপর নর্দমা তৈরি হয়েছে তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন