

গত মে মাস থেকেই রাজ্যের স্টেশনে স্টেশনে এবং স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে চলছিল হকার উচ্ছেদ এবং উচ্ছেদ অভিযান। রেলের উচ্ছেদের জেরে ইতিমধ্যেই জীবিকা হারিয়েছেন বহু মানুষ। এবার চালু হয়ে গেল ভারতীয় রেলের নতুন নিয়ম। জন বিশ্বাস (বিধান সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর অধীনে ভারতীয় রেল বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। যার অঙ্গ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে অনুমতিবিহীন হকারি, রেলে ভিক্ষা করা ইত্যাদি। ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে গত ২৬ জুন এই বিষয়ে এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) বিস্তারিত জানানো হয়েছিল। প্রসঙ্গত, রেলের নিয়ম অনুসারে, ট্রেনে হকারি করার অনুমোদন দেওয়া হয় না।
ভারতীয় রেলের নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে ট্রেনে অথবা রেল চত্বরে অননুমোদিত হকারি এবং ভিক্ষা করা যাবে না। রেলের বৈধ লাইসেন্স ছাড়া পণ্য বিক্রি করলে অথবা রেলের কামরায় কিংবা স্টেশন চত্বরে ভিক্ষা এখন থেকে সঙ্গে সঙ্গে ২০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে। জরিমানার টাকা দিতে না পারলে অপরাধীকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে এবং সেখানে শাস্তি হিসেবে ৩ মাস পর্যন্ত কারাদন্ড, ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা দুইই হতে পারে। রেলের এই সিদ্ধান্ত আতঙ্কে দিন গুণছেন বহু হকার।
ওই নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বারবার একই অপরাধ করলে অথবা নিয়ম লঙ্ঘন করলে শাস্তি আরও কঠোর হবে। কোনও ব্যক্তি চারবার বা তার বেশিবার অনুমতিবিহীন ভাবে ফেরি করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তার একবছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
রেলের ওই নির্দেশিকাতে ধূমপান সংক্রান্ত নিয়মও আরও কঠোর করা হয়েছে। এখন থেকে ট্রেনের ভেতর বা চিহ্নিত রেলওয়ে চত্বরের মধ্যে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুসারে, ধূমপান করতে গিয়ে ধরা পড়লে অপরাধীকে ২০০০ টাকা জরিমানা করা হতে পারে। জরিমানার পাশাপাশি, রেল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতে অথবা তাঁর পাস কিংবা টিকিট বাজেয়াপ্ত করতে পারে। ওই ব্যক্তি জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে আদালতে হাজির করানো হতে পারে।
রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সংশোধিত জরিমানা বাড়ানোর মূল লক্ষ্য রেলওয়ের নিয়মকানুন যাতে যাত্রীরা মেনে চলেন। রেলের মতে কঠোর শাস্তির বিধান দেওয়া থাকলে যাত্রীরা নিয়ম লঙ্ঘন এড়িয়ে চলবে। যাতে অন্যান্য যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়বে এবং চলমান ট্রেন ও স্টেশন চত্বরে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
রাজ্যের বিভিন্ন ট্রেনে হকারি করেন প্রায় ১ লক্ষের কাছাকাছি মানুষ। এটাই তাদের একমাত্র জীবিকা। হকারি বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা কী করবেন তা নিয়েই তাঁরা চিন্তিত। দিন কয়েক আগেই কাকিনাড়া স্টেশনে এক হকার চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। এই প্রসঙ্গে হকার সংগঠনের নেতৃত্বরা জানিয়েছেন, ট্রেনে এবং প্ল্যাটফর্মে ফেরি করা হকারদের নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন