

ওড়িশায় গত ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত রাজ্যসভা নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-সমর্থিত এক নির্দল প্রার্থীর পক্ষে 'ক্রস-ভোটিং' দেওয়ার অভিযোগে ছয় বিধায়ককে সাসপেন্ড করল বিজু জনতা দল (বিজেডি)।
ওই আসনের জন্য কোনো দলেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। আট বিজেপি বিধায়ক, তিন কংগ্রেস বিধায়ক এবং ছয় বিজেডি বিধায়কের ‘ক্রস ভোটিং'-এর ফলে নির্দল প্রার্থী দিলীপ রায় জয়লাভ করতে সক্ষম হন।
বিজেডি সভাপতি নবীন পট্টনায়েক বরখাস্ত সংক্রান্ত এক আদেশে জানিয়েছেন, ওই বিধায়করা 'ক্রস-ভোটিং'-এর মতো 'দলবিরোধী কার্যকলাপে’ লিপ্ত ছিলেন, যা বিজেডি-র গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘন; কারণ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় যৌথ সিদ্ধান্ত মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
বরখাস্তকৃত বিধায়করা হলেন — চক্রামণি কানহার (বালিগুডা), নব কিশোর মল্লিক (জায়াদেব), সৌভিক বিসওয়াল (চৌদওয়ার-কটক), সুবাসিনী জেনা (বস্তা), রামাকান্ত ভোই (তিরতোল) এবং দেবী রঞ্জন ত্রিপাঠী (বাঁকি)। এই ছয় বিধায়ক এবং আগে সাসপেন্ড হওয়া আরও দুই বিধায়ক — অরবিন্দ মহাপাত্র ও সনাতন মহাকুদ — চতুর্থ রাজ্যসভা আসনের জন্য লড়াইয়ে থাকা বিজেডি ও কংগ্রেসের যৌথ প্রার্থী হিসেবে মনোনীত ইউরোলজিস্ট দাত্তেশ্বর হোতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
এর আগে ওই বিধায়কদের শো-কজ নোটিশ জারি করেছিল বিজেডি। তাঁদের দেওয়া জবাব দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি পর্যালোচনা করার পরই সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজেডি-র মুখ্য সচেতক (Chief Whip) প্রমিলা মল্লিক জানিয়েছেন, দল ওই বিধায়কদের সদস্যপদ বাতিলেরও দাবি জানাবে।
সাস্পেন্সনের ফলে ওড়িশা বিধানসভায় বিজেডি-র শক্তি কমে ৪২-এ দাঁড়িয়েছে।
রাজ্যসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি বিধায়ক উপাসনা মহাপাত্র এবং পূর্ণচন্দ্র শেঠিকে দুটি করে ব্যালট পেপার ইস্যু করা হয়েছিল। বিজেডি এই বিষয়টি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে। প্রমিলা মল্লিকের অভিযোগ, আপত্তি জানানো সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন ওই ভোটগুলো গণনা করার অনুমতি দিয়েছে। তিনি বলেন, "দ্বিতীয় ব্যালট পেপার ইস্যু করাটা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। তাঁদের ভোটগুলো বাতিল করা উচিত ছিল, কিন্তু সেগুলোকে বৈধ ভোট হিসেবেই গণনা করা হয়েছে। জেডি এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আইনি লড়াইও চালিয়ে যাবে।"
কংগ্রেসও ক্রস-ভোটিংয়ের অভিযোগে তাদের তিনজন বিধায়ক — সোফিয়া ফিরদৌস, রমেশ জেনা এবং দশরথি গোমাঙ্গো—কে সাসপেন্ড করেছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন