

বিরোধী জোটের বিধায়করা ভোট দানে বিরত থাকায় বিহারে পাঁচটি রাজ্যসভা আসনেই জয়ী হলেন এনডিএ প্রার্থীরা। কংগ্রেসের তিন এবং তাঁদের জোটসঙ্গী রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) এক বিধায়ক ভোটদানে বিরত থেকে এনডিএ প্রার্থীদের জয়ের পথ মসৃণ করেছেন। আরজেডি এই পরাজয়ের জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করছে।
বিহার বিধানসভার বিধায়ক সংখ্যার হিসেবে চার এনডিএ প্রার্থীর জয় নিশ্চিত ছিল। এই চারজনের মধ্যে দু’জন জেডি(ইউ)-র নীতিশ কুমার ও রামনাথ ঠাকুর এবং বিজেপির দু’জন নীতিন নবীন ও শিবম কুমার। পাঁচ নম্বর আসনের জন্য লড়াইয়ে ছিলেন এনডিএ-র প্রার্থী শরিক দল 'রাষ্ট্রীয় লোক মঞ্চ'-এর প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহা এবং আরজেডি-র এডি সিং। এনডিএ-র পক্ষেই গেল জয়। শাসক জোট আগেই দাবি করেছিল, পঞ্চম আসনেও তারাই জয়ী হবে।
জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪১ বিধায়কের সমর্থন। বিরোধী জোটের হাতে ৩৫ জন বিধায়কের সমর্থন ছিল। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে AIMIM-এর পাঁচজন এবং মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির (BSP) একজন বিধায়কের সমর্থন চেয়েছিল মহাজোট। AIMIM-এর সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে বহু কাঠ-খড় পুড়িয়েছেন তেজস্বী যাদব। AIMIM নেতা আখতারুল ইমান আয়োজিত এক ইফতার পার্টিতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি, যেখানে কয়েক মাস আগেই অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে দুই দল একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছিল। বিএসপি-র একমাত্র বিধায়কেরও সমর্থন আদায় করতে সফল হয়েছিলেন তিনি।
প্রাথমিক দ্বিধা-দ্বন্দ্বের পর AIMIM-এর পাঁচ এবং BSP-র এক বিধায়ক আরজেডি প্রার্থীকেই ভোট দেন।
কিন্তু কংগ্রেসের ছয় বিধায়কের মধ্যে তিনজন - মনোজ বিশ্বাস, মনোহর প্রসাদ সিং এবং সুরেন্দ্র কুশওয়াহা - ভোট দিতেই উপস্থিত হননি; পাশাপাশি আরজেডি-র ফয়জল রহমানও অনুপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সুরেন্দ্র কুশওয়াহা আগে উপেন্দ্র কুশওয়াহার দলেই ছিলেন।
বিহারের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে জোর চর্চা চলছে যে, কংগ্রেসের কারণেই তেজস্বী যাদবের আরজেডি-কে ফের একবার পরাজয়ের মুখ দেখতে হল। কারণ কংগ্রেস তাদের বিধায়কদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রায় বিহারের গোটা রাজনৈতিক মহলই জানত, এই বিধায়করা দলের প্রতি অসন্তুষ্ট। তারপরও দলের তরফ থেকে তাঁদের সাথে যোগাযোগের কোনও চেষ্টাই করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ফয়জল রহমানের বাবা মতিউর রহমানকে এর আগে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল আরজেডি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন