

আগামীকাল ৮ জুন দিল্লিতে ইন্ডিয়া মঞ্চের বৈঠক। যদিও এই বৈঠকে শেষ পর্যন্ত ক’টি বিরোধী দল অংশ নেবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ডিএমকে আগেই জানিয়ে দিয়েছে তারা এই বৈঠকে যোগ দেবে না। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি এই বৈঠকে থাকলেও বিধানসভার মত সংসদেও তৃণমূল ভেঙে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে কংগ্রেসের উদ্দেশে সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবীর খোলা চিঠিও বেশ কিছু জটিলতা সৃষ্টি করেছে। সেক্ষেত্রে বাকি আর কোন কোন দল এই বৈঠকে যোগ দেয় তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল চরমে।
রবিবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের যোগাযোগ বিভাগের (Communications) সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ দাবি করেছেন আগামীকালের বৈঠকে ২৩ টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন। এদিন তিনি জানান, আগামীকাল দুপুর ১২টায় দিল্লীর কন্সটিটিউশন ক্লাবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র অনুসারে, তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন টিভিকে-কে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামীকালের বৈঠকে থালাপতি বিজয়ের দলের কেউ যোগ দেন কিনা তার দিকেও নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
সূত্র অনুসারে, আগামীকালের বৈঠকে সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবীর যোগদানের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ ইতিমধ্যেই তিনি এক খোলা চিঠিতে কংগ্রেস সাংসদ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর কিছু বক্তব্যের বিরোধিতা করে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। অনুমান করা হচ্ছে প্রতিবাদ স্বরূপ আগামীকালের বৈঠকে তিনি যোগ দিচ্ছেন না। তবে এম এ বেবী না গেলেও এই বৈঠকে সিপিআইএম-এর রাজ্যসভা সাংসদ জন ব্রিটাস যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে লেখা এক চিঠিতে বেবী জানিয়েছেন, রাহুল গান্ধী এবং কিছু কংগ্রেস নেতা সম্প্রতি বাম দলগুলির সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাতের যে অভিযোগ তুলেছেন তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
অন্যদিকে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থীপদ নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তৈরি হওয়া বিবাদের কারণে ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার কোনও প্রতিনিধি এই বৈঠকে যোগ দেন কিনা তাও দেখার।
আগামীকালের বৈঠকের আগে সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “তৃণমূল স্তরে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে, কিন্তু বিরোধী দলগুলো সেই ক্ষোভকে নির্বাচনী সুবিধায় কাজে লাগাতে পারছে না। আগামীকালকের বৈঠকে জোটের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা এবং একটি কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ তৈরি করা প্রয়োজন। কংগ্রেস যদি এই জোটের নেতৃত্ব দিতে চায়, তবে তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। দলের নেতারা এমন কথা বলে বেড়াতে পারেন না যে একমাত্র কংগ্রেসই বিজেপিকে হারাতে সক্ষম। তাহলে এই জোটের প্রয়োজনীয়তা কী? উত্তরপ্রদেশ, বিহার, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস কোথায়? মন্ত্রীপদ পাওয়ার আশায় তামিলনাড়ুতে যেভাবে ডিএমকে-কে কংগ্রেস উপেক্ষা করেছে, তা জোটের জন্য একটি ভুল পদক্ষেপ ছিল; স্বাভাবিকভাবেই এখন সব দলই কংগ্রেসের বিষয়ে সতর্ক থাকবে।”
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আগামীকালের বৈঠকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন আগামীকালই ভাঙতে চলেছে তৃণমূলের সংসদীয় দল। সূত্র অনুসারে, রাজ্যসভা এবং লোকসভা মিলিয়ে তৃণমূলের ৪১ জন সাংসদের মধ্যে অধিকাংশই আগামীকাল বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। সেক্ষেত্রে দলের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেক্ষেত্রে বিশেষ সেই পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া মঞ্চে তৃণমূলের গুরুত্বও অনেকটাই কমে যাবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন