

বুধবার দু’দিনের ইজরায়েল সফরে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এই সফরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানইয়াহু-র (Benjamin Netanyahu) সঙ্গে একান্ত বৈঠক এবং ইজরায়েলি সংসদ নেসেটে (Knesset) ভাষণ দেওয়া ছাড়াও একাধিক কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজাক হেরজগ-এর (Isaac Herzog) সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন ইজরায়েলে ভারতের রাষ্ট্রদূত জে পি সিং। এর আগে ২০১৭ সালে ইজরায়েল গেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৩ সালে ইজরায়েলে হামাসের আক্রমণ এবং তার পরবর্তী সময়ে প্যালেস্তাইন ও গাজায় ইজরায়েলি আক্রমণে ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যুর পর আবার তিনি ইজরায়েল গেলেন।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর এবং সফরের সময় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবী, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা প্রমুখ। এছাড়াও সোমবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের (Ministry of External Affairs) সংসদীয় স্থায়ী কমিটির (Parliamentary Standing Committee) পক্ষ থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবী এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানিয়েছেন, মোদির জায়নবাদী ইজরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন—যে সময়ে প্যালেস্তাইনের বিরুদ্ধে এক অবিরাম ও নির্মম গণবিধ্বংসী অভিযান চলছে—তা ভারতের ঔপনিবেশিক-বিরোধী ঐতিহ্য ও নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্যালেস্তিনীয় জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে ভারতের যে সুদীর্ঘ ও নীতিগত অবস্থান ছিল এবং যা জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাবে ভারতের সহ-উদ্যোগ ও সমর্থনের মাধ্যমে পুনঃপুন নিশ্চিত হয়েছে, এই অবস্থান তা পরিত্যাগের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
যুদ্ধাপরাধী নেতানিয়াহু এখন ঘোষণা করেছেন যে ভারত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করবে, এবং মোদি তাঁর সুরে সুর মেলাতে “নাচতে এবং গান গাইতে” (Dance and Sing) ইজরায়েল যাচ্ছেন। এই অসাধু জোট আমাদের জাতির আত্মার উপর একটি দাগ হয়ে থাকবে যা কখনও মোছা যাবেনা। লজ্জা!
ওয়াইনাডের কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েল সফরের কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছেন, আমি আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজী তাঁর আসন্ন ইজরায়েল সফরে নেসেটে ভাষণ দেওয়ার সময় গাজায় হাজার হাজার নিরীহ পুরুষ, মহিলা এবং শিশুর গণহত্যার কথা উল্লেখ করবেন এবং তাদের জন্য ন্যায়বিচার দাবি করবেন। ভারত একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের ইতিহাস জুড়ে যা সঠিক তা সমর্থন করেছে, আমাদের অবশ্যই বিশ্বকে সত্য, শান্তি এবং ন্যায়বিচারের পথ প্রদর্শন করে যেতে হবে।
সম্প্রতি বিদেশমন্ত্রকের স্ট্যান্ডিং কমিটির এক বৈঠকে অন্তত একজন সদস্য প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের পেছনের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, যখন ভারত সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার জন্য একটি পরামর্শ জারি করেছে সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর সফর কেন? তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলও এই সংঘাতের সাথে জড়িয়ে যেতে পারে।
যে প্রশ্নের জবাবে, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি জানান, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রীর সকল সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উত্তেজনা আরও বাড়লে সফর বাতিল করা হবে কিনা তা তিনি স্পষ্ট করে জানাননি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন