অবিরাম বর্ষণে ভয়াবহ অবস্থা হিমাচল প্রদেশের। মঙ্গলবার সন্ধ্যে পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশের ২৫৯টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হয়ে আছে ৮২টি জল প্রকল্প এবং প্রবল বৃষ্টির জেরে ১৬১টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার অকেজো হয়ে গেছে। যার মধ্যে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা কুলু এবং মান্ডি জেলা। মঙ্গলবার রাতে হিমাচল প্রদেশ এমারজেন্সি অপারেশন সেন্টারের (State Emergency Operation Centre – SEOC) পক্ষ থেকে একথা জানানো হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টি চলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
জুনের ৩০ তারিখ থেকে আগস্টের ৯ তারিখ পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশের বৃষ্টি, হড়পা বানে মৃত্যু হয়েছে ৬৮ জনের। এছাড়াও বৃষ্টিজনিত কারণে বিভিন্ন পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৮৯ জনের। এখনও পর্যন্ত ২৫৭ জন নিখোঁজ বলে জানিয়েছে প্রশাসন। আগামী কয়েকদিনে হিমাচল প্রদেশের পাঁচ জেলায় আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
মঙ্গলবার ১১ আগস্ট বিকেলের প্রশাসনিক তথ্য অনুসারে সিমলায় ৪৩টি, কুলুতে ৪০টি এবং মান্ডিতে ৭৭টি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় হড়পা বানে স্থানীয় বিভিন্ন নদীর ওপর থাকা ছোটো ব্রিজ ভেসে গেছে। মান্ডিতে বন্ধ হয়ে আছে ১২০টি রাস্তা। এছাড়াও চাম্বাতে ৪২টি, কুলুতে ৪০টি এবং সিমলাতে ৩০টি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টির কারণে সিমলা, কুলু জেলার বিভিন্ন রাস্তায় ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। সোমবার বিকেল চারটে পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার মধ্যে বাজাউরাতে বৃষ্টি হয়েছে ১০১.৫ মিলিমিটার, ভাট্টিয়াতে ৯৫.২, ধর্মশালায় ৯৪.৩, পালমপুরে ৬৬.৪, ভুন্টারে ৫৮.৬, কাংড়াতে ৫৫.৪, জোতে ৫১, জোগীন্দরনগরে ৫০, পান্ডোতে ৪৩.৮, সুজানপুর টিরায় ৩৮.২, সারাহানে ৩৭.৭ মিলিমিটার।
মঙ্গলবার প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে কুলুর সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা আসার পরেই প্রশাসনিক স্তরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আবহাওয়া দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় প্রবল বৃষ্টির কারণে ধস নামতে পারে, রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং হড়পা বান আসতে পারে।
এখনও পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের জেরে হিমাচল প্রদেশের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯১০ কোটি টাকা। প্রশাসনিক সূত্র অনুসারে, প্রবল বৃষ্টি এবং জলোচ্ছ্বাসের কারণে হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ধস নেমেছে, বিভিন্ন রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন