

এই নিয়ে ১৬ বার। দেশে যেখানে বহু বন্দী মুক্তি চেয়েও পান না সেখানে বার বার প্যারোলে ছাড়া পান ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ডেরা সাচ্চা সৌদা প্রধান গুরমিত রাম রহিম। এবার তিনি প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন ৩০ দিনের জন্য। আগামী ২৪ জুন তাঁকে আবার জেলে ফিরতে হবে। তাঁকে মুক্তি দিয়েছে হরিয়ানা সরকার।
ছাড়া পাবার পর মঙ্গলবারই রোহতকের সুনারিয়া জেল থেকে সিরসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন রাম রহিম। প্রসঙ্গত ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০১৭ সাল থেকে সুনারিয়া জেলে বন্দী আছেন তিনি। তাঁকে ২০ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের অপরাধে ২০ বছরের কারাদন্ডের সাজা ভোগ করছেন ডেরা সাচ্চা প্রধান। ২০১৭ সালে তিনি ধর্ষণে অভিযুক্ত হন। সেই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত তিনি মোট ১৬ বার প্যারোলে মুক্তি পেলেন। গত জানুয়ারি মাসে তাঁকে ৪০ দিনের মেয়াদে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
২০ বছরের কারাবাসের মেয়াদে এই নিয়ে ১৬ বার প্যারোলে মুক্তি পেলেন রাম রহিম। দিনের হিসেবে যা প্রায় ৪৩০ দিনেরও বেশি। শিরোমণি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির পক্ষ থেকে এর আগে বারবার তাঁর প্যারোলে মুক্তি পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। আদালতেও তাঁর বারবার জামিন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গত জানুয়ারি মাসে তাঁর জামিন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিপিআইএম সাংসদ জন ব্রিটাস।
● চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাঁকে ৪০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
● এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে ৪০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি।
● ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে ২১ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
● তারও আগে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি ৩০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন।
● হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর তাঁকে ২০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
● ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রাজস্থান নির্বাচনের আগে ২৯ দিনের প্যারোল দেওয়া হয় তাঁকে।
● ওই বছরের জুলাই মাসে হরিয়ানার পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ৩০ দিনের প্যারোলে ছুটি দেওয়া হয়েছিল।
● ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তাঁকে ২১ দিনের জন্য পারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
● ২০২২ সালের জুন মাসে হরিয়ানা পৌর কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে এবং অক্টোবর মাসে আদমপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
● ২০২০ সালের অক্টোবরে, সোনেপতের বরোদা উপনির্বাচনের সময়ও তাকে দিনের বেলা গুরুগ্রামে অসুস্থ মায়ের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেরা সাচ্চা সৌদার বড় ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে হরিয়ানা, পাঞ্জাব, রাজস্থান ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে। বহু বছর ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার জন্য আগ্রহী। বিশেষত নির্বাচনের সময় এই ডেরা প্রধানের ‘আর্শীবাদ’ পেতে নেতারা ডেরায় যান—এ ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রতিবার প্যারোলে মুক্তি পেলে রাম রহিম উত্তরপ্রদেশের বাগপতে তাঁর আশ্রমে যান।
২০০২ সালে গুরমিত রাম রহিম দুই মহিলা শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০১৭ সালে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও, ডেরার প্রাক্তন ম্যানেজার রণজিত সিং হত্যা মামলায়ও তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেও ২০২৪ সালের মে মাসে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এই মামলার তদন্তকে ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ আখ্যা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দেয়। এছাড়াও এক সাংবাদিক হত্যার মামলায় আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন