

আরও একবার প্যারোলে ছাড়া পেলেন ডেরা সাচা সৌদা প্রধান গুরমীত রাম রহিম সিং। যিনি দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের অপরাধে ২০ বছরের কারাদন্ডের সাজা ভোগ করছেন। ২০১৭ সালে ধর্ষণে অভিযুক্ত হন রাম রহিম। সেই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত তিনি মোট ১৫ বার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর এবারের প্যারোলের মেয়াদ ৪০ দিন। আজই তিনি রোহতক-এর সুনারিয়া জেল থেকে বাইরে বেরিয়েছেন।
এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিপিআইএম সাংসদ জন ব্রিটাস। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “উমর খালিদকে কোনো জামিন দেওয়া হয়নি — তাঁকে কঠোর UAPA আইনের অধীনে ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে, অথচ বিচার প্রক্রিয়া এখনও শুরুই হয়নি। বিচারের আগে জেল কোনো শাস্তি হতে পারে না!!”
ওই বিবৃতিতেই তিনি আরও বলেন, নীতি এই যে “জামিনই নিয়ম, জেল ব্যতিক্রম”, তা স্পষ্টতই কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। একদিকে, সাজাপ্রাপ্ত ধর্ষক ও খুনি গুরমিত রাম রহিম সিংকে (২০১৭ সালে দণ্ডিত) সম্প্রতি আরও ৪০ দিনের প্যারোল মঞ্জুর করা হয়েছে — সাজা পাওয়ার পর থেকে এটি কারাগার থেকে তার ১৫তম সাময়িক মুক্তি। আর একজন বিচার ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাগারে ধুঁকছে।”
২০ বছরের কারাবাসের মেয়াদে এই নিয়ে ১৫ বার প্যারোলে মুক্তি পেলেন রাম রহিম। দিনের হিসেবে যা প্রায় ৪০০ দিনেরও বেশি। শিরোমণি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির পক্ষ থেকে এর আগে বারবার তাঁর প্যারোলে মুক্তি পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। আদালতেও তাঁর বারবার জামিন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
● এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে ৪০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি।
● ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে ২১ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
● তারও আগে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি ৩০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন।
● হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর তাঁকে ২০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
● ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রাজস্থান নির্বাচনের আগে ২৯ দিনের প্যারোল দেওয়া হয় তাঁকে।
● ওই বছরের জুলাই মাসে হরিয়ানার পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ৩০ দিনের প্যারোলে ছুটি দেওয়া হয়েছিল।
● ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তাঁকে ২১ দিনের জন্য পারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
● ২০২২ সালের জুন মাসে হরিয়ানা পৌর কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে এবং অক্টোবর মাসে আদমপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
● ২০২০ সালের অক্টোবরে, সোনেপতের বরোদা উপনির্বাচনের সময়ও তাকে দিনের বেলা গুরুগ্রামে অসুস্থ মায়ের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেরা সাচ্চা সৌদার বড় ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে হরিয়ানা, পাঞ্জাব, রাজস্থান ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে। বহু বছর ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার জন্য আগ্রহী। বিশেষত নির্বাচনের সময় এই ডেরা প্রধানের ‘আর্শীবাদ’ পেতে নেতারা ডেরায় যান—এ ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রতিবার প্যারোলে মুক্তি পেলে রাম রহিম উত্তরপ্রদেশের বাগপতে তাঁর আশ্রমে যান।
২০০২ সালে গুরমিত রাম রহিম দুই মহিলা শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০১৭ সালে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও, ডেরার প্রাক্তন ম্যানেজার রণজিত সিং হত্যা মামলায়ও তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেও ২০২৪ সালের মে মাসে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এই মামলার তদন্তকে ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ আখ্যা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দেয়। এছাড়াও এক সাংবাদিক হত্যার মামলায় আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে।