

নিউজ পোর্টাল নিউজক্লিক (NewsClick) এবং সংস্থার প্রধান সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থর (Prabir Purkayastha) বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর খারিজ করল দিল্লি হাইকোর্ট। বুধবার এই প্রসঙ্গে বিচারপতি নীনা বনসল কৃষ্ণা জানিয়েছেন, এই ধরণের এফআইআর আইন প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়। কারণ এফআইআর-এর অভিযোগ মানা হলেও ভারতীয় দন্ডবিধির ধারা ৪০৬ এবং ৪২০-র অধীনে অপরাধের অপরিহার্য উপাদান প্রমাণিত হয়নি।
২০২০ সালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের পাঠানো এক অভিযোগের ভিত্তিতে নিউজক্লিক এবং প্রবীর পুরকায়স্থর বিরুদ্ধে ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW)-এর দায়ের করা এফআইআর এবং পরবর্তীকালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) করা এফআইআর এদিন খারিজ করে দিল্লি হাইকোর্ট।
বুধবার এই মামলার রায়ে বিচারপতি নীনা বনসল কৃষ্ণার সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়েছে, এই ধরণের এফআইআর বজায় রাখা আইন প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহার। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুসারে, মূল অপরাধের এফআইআর একবার বাতিল হয়ে গেলে ইসিআইআরও (Enforcement Case Information Report) বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা।
লাইভ ল-র প্রতিবেদন অনুসারে, অভিযোগে বলা হয়েছিল, এফডিআই বিধিনিষেধ এড়ানোর জন্য নিউজক্লিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ওয়ার্ল্ডওয়াইড মিডিয়া হোল্ডিংস এলএলসি-র কাছ থেকে এক কথিত অতিমূল্যায়িত শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে ৯.৫৯ কোটি টাকার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। যে টাকা বেতন, পরামর্শ ফি এবং অন্যান্য খরচের মাধ্যমে তহবিলের এক উল্লেখযোগ্য অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এর পরেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ইসিআইআর দায়ের করে নিউজক্লিকের অফিস এবং সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থর বাড়িতে অভিযান চালায়।
এদিন এই মামলা খারিজ করে বিচারপতি জানিয়েছেন, ওয়ার্ল্ডওয়াইড মিডিয়া হোল্ডিংস এলএলসি, পিপিকে নিউজক্লিক স্টুডিও প্রাইভেট লিমিটেডের ২৩.০৭ শতাংশ শেয়ারের বিনিময়ে তিন কিস্তিতে ৪.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে সম্মত হয়েছিল। যার প্রথম কিস্তির ১.৫ মার্কিন ডলার ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল পাওয়া যায়। আদালত আরও জানিয়েছে, এই বিনিয়োগের সময় ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ওপর কোনও সীমা ছিল না।
এই বিনিয়োগের আগেই এই বিষয়ে জানতে চেয়ে ২০১৭ সালে নিউজক্লিকের পক্ষ থেকে নিউজ পোর্টালে এফডিআই-এর নীতি প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। যে চিঠির উত্তরে মন্ত্রক বিধিনিষেধ না থাকার কথা জানায় ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে।
লাইভ ল-র প্রতিবেদন জানাচ্ছে, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুসারে, মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া চিঠিতে একথা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে সেই সময় নিউজ পোর্টালে এই ধরণের কোনও বিধিনিষেধ ছিল না। ফলে এই চুক্তিকে (২০.০৩.২০১৮) কোনোভাবেই আইনের লঙ্ঘন বা কোনও ফৌজদারি অপরাধের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা যায় না এবং যে এপ্রিল ২০১৮ (১১.০৪.২০১৮) তে যখন প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়া গেছিল তখনও এই সংক্রান্ত কোনও বিধিনিষেধ ছিলনা। এছাড়াও দুই পক্ষের মধ্যে যথাযথ আলোচনার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো পদ্ধতি ব্যবহার করে ফেমা (FEMA) বিধি অনুযায়ী শেয়ারের মূল্যায়ন করা হয়।
এই মামলার পর্যবেক্ষণে আদালত তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছে, অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হয়ে থাকলে বা অত্যধিক খরচ করা হয়ে থাকলেও তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। আদালত জানিয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তদন্তকারীদের জানিয়েছিল, বৈদেশিক অর্থপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ফেমা বিধি লঙ্ঘনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। আদালত আরও জানায়, তদন্তের সময় এমন কিছু তথ্য উঠে আসেনি যে আবেদনকারীর দ্বারা কোনও ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রতারিত হয়েছেন। অর্থাৎ ভারতীয় দন্ডবিধির ৪২০ ধারায় বা ৪০৬ ধারা অনুযায়ী কোনও অপরাধের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও ভারতীয় দন্ডবিধির ১২০ বি ধারার অধীনে আনা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র কোনও বিনিয়োগ চুক্তি করা হলে তাকে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র বলে গণ্য করা যায় যায় না।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন