

দিনে ডিজেল বিক্রির সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে, ডিজেল ঘাটতি আটকাতে কোনও যানবাহন দিনে ২০০ লিটারের বেশি ডিজেল কিনতে পারবে না। এছাড়াও শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারীরা পেট্রোল পাম্প থেকে পেট্রোল ও ডিজেল কিনতে পারবে না বলেও জানানো হয়েছে।
সরকারের এই বিধি আপাতত আগামী ৯০ দিন জারি থাকবে। যে সময়ের মধ্যে খুচরো আউটলেটগুলো থেকে শুধুমাত্র গাড়ির ট্যাঙ্ক অথবা পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন বা পেসো অনুমোদিত কন্টেনারে ডিজেল বিক্রি করতে পারেব এবং তা কোনোভাবেই কোনও গ্রাহক বা গাড়ির জন্য ২০০ লিটারের বেশি হবেনা।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আমেরিকা ইরান ইজরায়েল সংঘাতের কারণে বেশ কিছুদিন থেকে পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকরা যাতে কোনোভাবেই সমস্যায় না পড়েন সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণাল্য ১১ জুন ‘মোটর স্পিরিট ও হাই স্পিড ডিজেল (খুচরো আউটলেটের মাধ্যমে সরবরাহের অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ) আদেশ, ২০২৬ জারি করেছে। যেখানে জ্বালানির খুচরো বিক্রেতাদের আগামী ৯০ দিনের জন্য খুচরো আউটলেট থেকে পাইকারি ক্রয় নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের কিছু অঞ্চলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে খুচরো এবং পাইকারি জ্বালানির দামে পার্থক্য থাকার কারণে দেশের বেশ কিছু অংশে রিটেল আউটলেটগুলোর মাধ্যমে পেট্রোল এবং ডিজেল বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেসরকারি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলি ডিজেলের দাম বেশি নির্ধারণ করায়, মে ২০২৬-এ তাদের বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৫৮ শতাংশ হ্রাস কমেছে।
অন্যদিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ডিজেল বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে; এক্ষেত্রে ৩২৭টি জেলায় ১০ শতাংশেরও বেশি এবং ৮০টি জেলায় ৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, খুচরো আউটলেট থেকে পাইকারি বিক্রির কারণে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য সরবরাহ করা জ্বালানি অন্যত্র চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকরা সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই এখন থেকে আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান, বানিজ্যিক সংস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকরা আর সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে পেট্রোল (মোটর স্পিরিট) বা ডিজেল (হাই স্পিড ডিজেল) কিনতে পারবেন না। তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানী নির্দিষ্ট কনজিউমার পাম্প বা অনুমোদিত সরবরাহ কেন্দ্র থেকেই কিনতে হবে। এই আদেশ অমান্য করলে 'অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৫' এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের বিধান অনুযায়ী জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন