

২৩,৭৩১ কোটি টাকার গোবর্ধন প্রকল্পে (GOBARdhan Scheme) অনুমোদন দিলো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। মূলত বায়োগ্যাস তৈরির উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এই প্রকল্প। এই প্রকল্পের সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের প্রচুর পরিমাণে কৃষি বর্জ্য, গোবর প্রভৃতি জৈব সম্পদকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানী, জৈব সার হিসেবে তৈরি করে তা জাতীয় আয়ের অন্তর্ভুক্ত করা।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, দেশের প্রচুর পরিমাণে থাকা কৃষি বর্জ্য, গোবর, প্রেসমাড, পৌর জৈব বর্জ্য এবং অন্যান্য জৈব সম্পদকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে জৈব সার, গ্রামীণ আয় এবং জাতীয় অর্থনৈতিক মূল্যে রূপান্তরিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার পক্ষ থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই প্রকল্পে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। ২৩,৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ সহ এই জৈবশক্তি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রকল্প প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩৫-৩৬ সাল পর্যন্ত গোবর্ধন গ্যাস প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। আগামী দিনে ভারতের জ্বালানি মিশ্রণের একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে তৈরি সংকুচিত বায়োগ্যাসকে প্রতিষ্ঠিত করবে।
গোবর্ধন প্রকল্প প্রসঙ্গে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় জল শক্তি দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভি সোমান্না জানিয়েছিলেন, ২০১৮ সালে স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ)-এর আওতায় 'গ্যালভানাইজিং অর্গানিক বায়ো-অ্যাগ্রো রিসোর্সেস ধন' (GOBARdhan বা গোবর্ধন) প্রকল্পটি চালু করা হয়। গ্রামীণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং গ্রামবাসীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে জৈব-বর্জ্যকে (যেমন—পশু-পাখির বর্জ্য, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট, ফসলের অবশিষ্টাংশ ও বাজারের বর্জ্য) বায়োগ্যাস ও বায়ো-স্লারিতে রূপান্তরের মাধ্যমে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটি কাজ করে।
গোবর্ধন প্রকল্পগুলি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে গবাদি পশুর গোবর এবং কৃষিকাজ থেকে প্রাপ্ত কঠিন বর্জ্যকে বায়োগ্যাস ও বায়ো-স্লারিতে রূপান্তর করতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে পচনশীল বর্জ্য পুনরুদ্ধার বা ব্যবহারের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। ভারত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করছে। গোবর্ধন পোর্টালে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭.০১.২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর 'কম্প্রেসড বায়োগ্যাস' (CBG) প্রকল্প এবং কমিউনিটি বা ক্লাস্টার-ভিত্তিক বায়োগ্যাস প্রকল্পগুলির বিস্তারিত বিবরণ অনুসারে সারা দেশে এই সংক্রান্ত মোট ১৮৯টি প্রকল্পের কাজ চলছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন