জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও SIR স্থগিতের দাবিতে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনে CPIM সহ ৫ বাম দল

People's Reporter: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিতে যৌথভাবে আন্দোলনে নামছে সিপিআইএম সহ দেশের পাঁচ বাম দল।
সাংবাদিক সম্মেলনে বাম নেতৃত্ব
সাংবাদিক সম্মেলনে বাম নেতৃত্বছবি সাংবাদিক সম্মেলনের ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট
Published on

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য চলা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে দেশজুড়ে কর্মসূচির ডাক দিল সিপিআই(এম)-সহ পাঁচ বামপন্থী দল। এই দাবিতে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জমায়েত ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সিপিআই(এম), সিপিআই, সিপিআই(এমএল) লিবারেশন, আরএসপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লক। যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, সিপিআই-এর সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আরএসপি-র সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক জি দেবরাজন।

পাঁচ দলের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মে স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানিয়েছে তারা। তাদের প্রস্তাব, নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও লোকসভার বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকেও রাখতে হবে।

যৌথ বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। পাঁচ দলের দাবি, গত দশ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী ১৪টি চিঠি দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি ও মতামত জানালেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তা বিবেচনায় নেননি। বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবহৃত ৬ নম্বর ফর্মে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

বাম দলগুলির অভিযোগ, কমিশনের বিধি অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট আপত্তিগুলি উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদন ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এসআইআর এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে যে প্রশ্নগুলি তুলেছে, তার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের উত্থাপিত আপত্তিরও মিল রয়েছে। পাঁচ দলের মতে, ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও বিকেন্দ্রীকরণের দাবি নিয়ে তাই আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গোয়ার একটি ঘটনার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে পাঁচ দল। তাদের দাবি, সেখানে ৯৭ জন ভোটারকে অযোগ্য ঘোষণার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ সফ্টওয়্যারে রাখা হয়নি। তাদের মতে, বিষয়টি শুধু এসআইআর-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাজের পদ্ধতি এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটাধিকার সরাসরি যুক্ত।

পাঁচ বাম দলের বক্তব্য, ভোটাধিকার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যদি অস্বচ্ছ ও কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তা হলে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতেই ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

সাংবাদিক সম্মেলনে বাম নেতৃত্ব
Rahul Gandhi: সংবিধান ধ্বংস থেকে ভোট চুরি! রাহুল গান্ধীর নিশানায় জ্ঞানেশ কুমার, মোদী-শাহ
সাংবাদিক সম্মেলনে বাম নেতৃত্ব
CPIM: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদে থাকার কোনও অধিকার নেই - সিপিআইএম পলিটব্যুরো

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in