দিল্লিতে ছাত্র যুবদের অবস্থান বিক্ষোভের মাঝেই ফের দিল্লিমুখী হলেন কৃষকরা। সোমবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে চলো সংসদ অভিযানের পরের দিনই কৃষকদের দিল্লিমুখী মিছিল। জানা গেছে, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাব থেকে দুটি আলাদা আলাদা মিছিল দিল্লি অভিমুখে রওনা দিয়েছে। যদিও পাঞ্জাবের কৃষকদের মিছিল আটকে দেওয়া হয়েছে দিল্লি ঢোকার আগে শম্ভু সীমান্তে।
আন্দোলন প্রসঙ্গে কৃষকদের বক্তব্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৃষকদের বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিলেও ভারতের অধিকাংশ কৃষকই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জমির মালিক। ফলে যদি কম দামের মার্কিন কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্য বিপুল পরিমাণে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করে, তা ভারতের কৃষক, দুগ্ধ উৎপাদনকারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং অতি-ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোর জীবিকার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কৃষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তি শুধু কৃষকদের জন্যেই বিপজ্জনক নয়, বরং কৃষি শ্রমিক, গবাদি পশু পালনকারী, ছোটো ব্যবসায়ী এবং অতি-ক্ষুদ্র উদ্যোগের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। আন্দোলনকারীদের মতে, এই চুক্তির আওতা কেবল কৃষির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর ফলে দুগ্ধ ও শিল্প খাত, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, মেধা-স্বত্ব অধিকার এবং সেবা খাতের মতো ক্ষেত্রগুলোও প্রভাবিত হবে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুসারে, দিল্লি ঢোকার আগে শম্ভু অঞ্চলে আম্বালা পুলিশের পক্ষ থেকে ভারতীয় নাগরিক ন্যায় সংহিতার ধারা ১৬৩ জারি করা হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত এই নির্দেশ বজায় থাকবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। ফলে সেখানেই আটকে রয়েছে কৃষকদের মিছিল এবং কৃষকরা সেখানেই অবস্থান করছেন। এদিনই ‘দেশ বাঁচাও মঞ্চ’র ডাকে দিল্লীর কিষাণঘাটে মহাপঞ্চায়েতের ডাক দিয়েছিল বিভিন্ন কৃষক সংগঠন। সংগঠনের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, এই মহাপঞ্চায়েতে যোগ দিতে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষকরা আসবেন।
পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা যে অঞ্চলে ভাগ হয়েছে সেই শম্ভু সীমান্তে বড়ো সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঘাগর নদীর ব্রিজে ব্যারিকেড এবং সিমেন্ট ব্লক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কৃষকদের জানানো হয়েছে, ব্যারিকেড থেকে কমপক্ষে ১০০ মিটার দূরে তাদের অবস্থান চালাতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শম্ভু সীমান্ত অঞ্চলে কোনও রকমের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কোনওভাবেই একসঙ্গে পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না।
অন্যদিকে হরিয়ানার কৃষকদের আটকে দেওয়া হয়েছে কার্নাল-এ। এই মিছিলও দিল্লীর দিকে এগোচ্ছিল। ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বাস্তারা টোল প্লাজার কাছে এই মিছিল আটকানো হয়েছে। এই অঞ্চল থেকে কৃষক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা গাড়িতে করে দিল্লি অভিমুখে আসছিলেন। কিন্তু পুলিশ বাস্তারা টোল প্লাজার কাছে তাদের আটকে দেওয়ায় তাঁরা এখান থেকে হেঁটেই দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করবেন।
দ্য ট্রিবিউনে প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন কৃষক নেতাকে আটক করা হয়েছে।