

ভোটের মুখে একটি পুরনো চিঠিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল সিপিআইএম। মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেকে জারি করা হয়েছিল ওই বিজ্ঞপ্তিটি। বিজ্ঞপ্তির নীচে বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক ‘পদ্ম’ চিহ্নের সিলমোহর রয়েছে। সোমবার বিকেলে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনে কেরল সিপিআইএম। এরপরই কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সমালোচনার মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন সাফাইয়ের সুরে জানায়, চিঠিতে পদ্ম চিহ্নের সিলমোহর যুক্ত হওয়ার বিষয়টি ‘সম্পূর্ণরূপে ক্ল্যারিকাল মিসটেক’।
চিঠিটি ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদেরও পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতে প্রার্থীদের অপরাধমূলক অতীত সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়মাবলির বিস্তারিত বিবরণ ছিল; নীচে বিজেপির কেরালা শাখার সিলমোহর এবং কমিশনের এক আধিকারিকের স্বাক্ষর ছিল।
কেরলে ক্ষমতাসীন সিপিআইএম নিজদের এক্স হ্যান্ডেলে এই চিঠি প্রকাশ করে লেখে, "বিজেপি কি আর কোনো আড়াল আবডাল রাখছে না? এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি-কে একই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু তবুও দুটি পৃথক দপ্তরের সৌজন্যটুকু তো বজায় রাখুন। এখন তাও বোধহয় নিষ্প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। যেমন তেমন করে সিল অদলবদল হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বিজেপির সিল! পুরোনো সেই অভিযোগের মতোই - যে বোতামই টিপুন না কেন, পদ্ম ফুল চলে আসবে - সেরকমই সামনে এলো আরও একটি 'সংযোগ'।"
কংগ্রেস এবং তৃণমূলও সিপিআইএম-এর এই অভিযোগকে সমর্থন করেছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র কটাক্ষ করে বলছেন, "নির্বাচন কমিশন অবশেষে বিজেপির সিলমোহর যুক্ত সরকারি চিঠি জারি করার সাহস দেখিয়েছে। বাহ্! গণতন্ত্র জিন্দাবাদ।"
কংগ্রেসের কেরালা শাখার প্রশ্ন, "নির্বাচন কমিশন কি বিজেপির কার্যালয় থেকে কাজ করছে?" নির্বাচনী আধিকারিকরা কিভাবে বিজেপির সিলমোহর হাতে পেলেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় বিজেপির সিল বসানো নির্বাচন কমিশনের ওই চিঠি। এরপরই সাফাই দেয় কমিশন। কেরলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে বলা হয়, "নির্বাচন কমিশনের একটি চিঠিতে বিজেপির সিল রয়েছে বলে দেখতে পেয়েছে আমরা। এটি পুরোপুরি ক্ল্যারিকাল এরর। এটি সঙ্গে সঙ্গে চিহ্নিত করা হয় এবং সংশোধনও করা হয়।"
কমিশনের আরও সাফাই, বিজেপির কেরালা শাখা কিছু বিষয় জানতে চেয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল। তখন কোনওভাবে সিল অদলবদল হয়ে যায়। কারও নজরে পড়েনি বিষয়টি। এক অফিসারকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ৯ এপ্রিল কেরলে এক দফায় ভোট। গণনা ৪ মে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন