

ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন (Digital News Publishers Association) আয়োজিত ডিএনপিএ কনক্লেভ ২০২৬-এ “দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার অব নিউজ” শীর্ষক আলোচনায় কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইন্টারনেটের চরিত্র বদলে গেছে। তাই ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম আর শুধু মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের দায় এড়াতে পারে না। তারা যে বিষয়বস্তু প্রকাশ ও প্রচার করে, তার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।
ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্পাদক, প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কর্তাদের উদ্দেশে বৈষ্ণব বলেন, ইন্টারনেট এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে প্ল্যাটফর্মগুলি আর শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পারে না। প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও সতর্ক হতে হবে। হাজার হাজার বছর ধরে মানব সমাজ যে প্রতিষ্ঠানগুলি তৈরি করেছে তার উপর আস্থা জোরদার করার গুরুত্ব প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে বুঝতে হবে।
অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, কী দেখানো হবে তা নির্ধারণ করে অ্যালগরিদম। ফলে ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পড়ে গণতন্ত্র, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থায়। শিশু ও সাধারণ নাগরিকের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্ব। শুধু সরকারি নিয়ন্ত্রণের ওপর ভরসা করলে চলবে না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৃত্রিম বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কারও মুখ বা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া ডিপফেক তৈরি করা অনৈতিক ও বিপজ্জনক বলে তিনি জানান। এ ধরনের বিষয়বস্তু মানুষকে এমন ঘটনা বিশ্বাস করাতে পারে, যা কখনও ঘটেনি। এতে সম্মানহানি, বিভ্রান্তি এবং সামাজিক অবিশ্বাস বাড়ে বলেও তিনি জানান। তিনি সতর্ক করেন, নিয়ম না মানলে ভবিষ্যতে কঠোর জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএনপিএ-র চেয়ারপারসন ও মালায়ালাম মনোরমা অনলাইনের সিইও মারিয়ম মামেন ম্যাথু (Mariam Mammen Mathew) বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংবাদ পরিবেশনের কাঠামো বদলে দিচ্ছে। তাই বিশ্বাসযোগ্য সাংবাদিকতা রক্ষা করতে প্রকাশক, নীতি নির্ধারক ও প্ল্যাটফর্মগুলিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নির্ভরযোগ্য সংবাদকে অ্যালগরিদমের ভিড়ে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন