

ইন্ডিয়া মঞ্চের মতবিরোধ এবার বাইরে এসে পড়লো। গত ৮ জুন দিল্লিতে ইন্ডিয়া মঞ্চের বৈঠক বয়কট করা ডিএমকে-র পক্ষ থেকে সরাসরি আক্রমণ করা হল লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে। কংগ্রেস সাংসদকে ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘অপরিণত’ বলেও অভিহিত করেছে এম কে স্ট্যালিনের দল। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকে-র পরাজয়ের পর জোটসঙ্গী কংগ্রেস থালাপতি বিজয়ের টিভিকে-র সঙ্গে হাত মেলানোর পরেই দুই দলের বিবাদের সূত্রপাত। রাজনৈতিক মহলের মতে ডিএমকে-র এই বক্তব্যের পর ইন্ডিয়া মঞ্চে শরিকি ফাটল আরও চওড়া হল।
ডিএমকে-র মুখপত্র ‘মুরাসোলি’-র সাম্প্রতিক সংখ্যায় রাহুল গান্ধীর কড়া সমালোচনা করেছে ডিএমকে। সম্প্রতি ইন্ডিয়া মঞ্চের বৈঠকে ঐক্য-র ওপর জোর দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর সেই মন্তব্যকে ‘বিলম্বিত বোধোদয়’ বলে জানিয়েছে ডিএমকে। পাশাপাশি ইন্ডিয়া মঞ্চ এবং রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী ঐক্যকে দুর্বল করার জন্যও রাহুল গান্ধীকেই দায়ী করা হয়েছে।
ডিএমকে-র আগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবী এবং কেরালা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন।মুরাসোলি-র সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে সিপিআই(এম)-এর রাজ্যসভা সাংসদ জন ব্রিটাসের মন্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেরালার প্রসঙ্গে এতে বলা হয়েছে, রাজ্যের প্রভাবশালী দল কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম) উভয়ই এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এবং সেই সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ আপত্তি জানায়নি। কিন্তু ভোট প্রচারের সময় রাহুল গান্ধীর করা অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে বর্ণনা করা হয় এবং তাঁর এই প্রশ্নটি উদ্ধৃত করা হয়: “প্রধানমন্ত্রী মোদী পিনারাই বিজয়নকে গ্রেপ্তার করেননি কেন? দুজনের মধ্যে একটি গোপন চুক্তি রয়েছে।” ডিএমকে-র বক্তব্য, সিপিআই(এম) এই বক্তব্যকে এক গুরুতর অভিযোগ হিসেবে দেখেছে।
ডিএমকে-র মুখপত্রের সম্পাদকীয়তে সাম্প্রতিক সময়ে ইন্ডিয়া মঞ্চের অন্যান্য সঙ্গীদের করা অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে নাম আছে সিপিআই-এর ডি রাজা, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, আরজেডি-র তেজস্বী যাদব প্রমুখের কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কথা।
সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে মুরাসোলি জানিয়েছে, বেবী বলেছেন “কেউ রাহুল গান্ধীকে পিনারাই বিজয়নকে আলিঙ্গন করতে বলেনি। বরং, আমরা তাঁকে পিনারাই বিজয়ন এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং মোদী সরকারের সহকারী হিসেবে কাজ করা বন্ধ করতে বলছি। এটা কোনো বিরোধী নেতার কাজ নয়।” এই বিষয়ে মুরাসোলি জানতে চেয়েছে, রাহুল গান্ধী কি এই অভিযোগের কোনও জবাব দিয়েছেন?
মুরাসোলির সম্পাদকীয়তে অভিযোগ করা হয়েছে, জোটে থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস ডিএমকে-কে পেছন থেকে ছুরি মেরেছে এবং এই ঘটনা রাহুল গান্ধীর মদতেই ঘটেছে। কংগ্রেস যে দলে যোগ দিয়েছে তার নেতা “আমি ইন্ডিয়া মঞ্চে যোগ দেব না” বলে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার পরেও রাহুল এখন ভালো সাজার চেষ্টা করছেন।
সম্প্রতি রাহুল গান্ধীর এক মন্তব্যের উত্তরে তাঁর কড়া সমালোচনা করে বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা পিনারাই বিজয়ন বলেন, রাহুল গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গীর কারণেই ইন্ডিয়া মঞ্চ ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। শুধু সিপিআইএম-ই নয়, প্রশ্ন তুলেছেন অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদবরাও। প্রশ্ন উঠেছে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে। আজ ডিএমকে কোন অবস্থানে আছে তাও স্পষ্ট। বাস্তবতা হল, এই ধরণের দৃষ্টিভঙ্গী কোনোভাবেই ইন্ডিয়া মঞ্চকে শক্তিশালী করবে না। বরং তা বিজেপিকেই সাহায্য করবে। আমি এর আগেও এই কথা বলেছি। এই ধরণের মন্তব্য করে রাহুল গান্ধী এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন যা বিজেপির স্বার্থের সহায়ক হয়ে উঠছে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন