ডিলিমিটেশন বিলে সমর্থন জানানোর প্রশ্নই নেই। শুক্রবার কেন্দ্রের প্রস্তাবিত আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন ডিএমকে। ইন্ডিয়া মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, কেন্দ্রের প্রস্তাবিত বিলে বিশেষ শর্তের বিনিময়ে সমর্থন জানাতে পারেন এম কে স্ট্যালিন এবং তাঁর দল। যদিও এদিন ডিলিমিটেশন বিলের বিষয়ে নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ডিএমকে।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হবার পর কংগ্রেসের আচরণে বিরক্তি প্রকাশ করে ইন্ডিয়া মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে আসে ডিএমকে। এরপরেই রাজনৈতিক মহলে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে ডিএমকে-র ভূমিক কী হবে তা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়ে ওঠে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ডিএমকে-র কাছে প্রস্তাবিত আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে সমর্থন চাওয়া হয়েছে এবং বিশেষ কিছু শর্তে ডিএমকে সমর্থন দিতে রাজীও আছে।
এদিন সেই গুঞ্জন নস্যাৎ করে দিয়েছে ডিএমকে। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের পাশাপাশি তাঁর ছেলে এবং বর্তমানে তামিলনাড়ু বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ডিএমকে বরাবর আসন পুনর্বিন্যাসের বিপক্ষে। কেন্দ্র এই বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরেছিল যেন ডিএমকে এই বিলে সমর্থন দেবে। কিন্তু তার কোনও সম্ভাবনা নেই। আমরা অতীতেও যেমন এই বিলের বিরোধিতা করেছি আগামীদিনেও বিরোধিতা করবো।
ডিএমকে-র এই কড়া অবস্থানে আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে সমস্যা বাড়লো কেন্দ্রের। কারণ এর আগে এই বিল পাশ করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। এই বিল পাশ করাতে গেলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে এবং যার জন্য সংসদে দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। যা এই মুহূর্তের কেন্দ্রীয় সরকারের নেই। বিল পাশ করানোর জন্য ডিএমকের সমর্থন খুবই জরুরি ছিল। কিন্তু ডিএমকে-র ঘোষণার পর কেন্দ্রকে এই বিষয়ে আবারও নতুন করে ভাবনাচিন্তা করতে হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই মুহূর্তে লোকসভায় ডিএমকে সাংসদ আছেন ২২ জন এবং রাজ্যসভায় ৮ জন।
গত এপ্রিলে এই বিল সংসদে উত্থাপিত হলে সরকার পক্ষ মোট ২৯৮টি ভোট পেয়েছিল। সেবার এনডিএ-র বাইরেও বিজেপি সমর্থন পেয়েছিল জগনমোহন রেড্ডির ওয়াইএসআরসিপি-র ৪ জনের, ১ জন নির্দল এবং ১ জন জেডপিএম সাংসদের। বর্তমানে শিবসেনা ইউবিটি এবং তৃণমূলে ভাঙন ধরায় শাসকপক্ষের পক্ষে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৯-এ। এর সঙ্গে ডিএমকে-র ২২ ধরলে এই সংখ্যা পৌঁছে যেত ৩৪১-এ। লোকসভায় ভোটাভুটিতে ৫৪০ জন সাংসদই উপস্থিত থাকলে প্রয়োজন হবে ৩৬০ ভোটের।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন