ঠিকা কর্মীদের স্থায়ীকরণের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবী; হরিয়ানায় সাফাই কর্মীদের ধর্মঘট ৩০ দিনে

People's Reporter: গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর হরিয়ানা সরকারের পক্ষ থেকে শনিবার কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে কাজে যোগ দেবার নির্দেশিকা জারি করা হলেও সেই নির্দেশিকা মানতে অস্বীকার করেছেন আন্দোলনরত কর্মীরা।
হরিয়ানায় আন্দোলনরত সাফাই কর্মীদের মিছিল
হরিয়ানায় আন্দোলনরত সাফাই কর্মীদের মিছিল ছবি সিপিআইএম হরিয়ানা ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহী
Published on

হরিয়ানায় সাফাই কর্মীদের ধর্মঘট ৩০ দিনে পড়লো। শুক্রবার ৫ সেপ্টেম্বর এই ধর্মঘট ৩০ দিনে পা দিলেও এখনও নিজেদের দাবি আদায়ে ধর্মঘট চালিয়ে যেতে অনড় সাফাই কর্মচারীরা। সাফাই কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে তাঁরা তাঁদের আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। যতক্ষণ না সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ এই আন্দোলন চলবে। সাফাই কর্মচারীদের এই অনড় মনোভাবে বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে হরিয়ানার বিজেপি সরকার।

গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর হরিয়ানা সরকারের পক্ষ থেকে শনিবার কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে কাজে যোগ দেবার নির্দেশিকা জারি করা হলেও সেই নির্দেশিকা মানতে অস্বীকার করেছেন আন্দোলনরত কর্মীরা। উল্টে সরকারি নির্দেশিকার বিরোদিতা করে এদিন সকালে তাঁরা নিজেদের মাথা মুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। গতকালের নির্দেশে ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে সব সাফাইকর্মীকে কাজে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ইতিমধ্যেই ধর্মঘটে অংশ নেবার জন্য মোট ২৪ জন কর্মীকে বরখাস্ত করেছে হরিয়ানা সরকার। এঁদের মধ্যে ১৪ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং বাকি ১০ জন হরিয়ানা কৌশল রোজগার নিগমের মাধ্যমে নিযুক্ত কর্মী। এর আগে ১৪ জন স্থায়ী দমকল কর্মীকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

কর্মচারীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে রোহতকের মিউনিসিপ্যাল স্যানিটেশন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের জেলা সভাপতি শম্ভু টাঙ্ক জানিয়েছেন, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও তা পূরণ করেনি। এখন শ্রমিকরা যখন দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে নেমেছে তখন সরকার আন্দোলন ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে।  

চাকরিতে স্থায়ীকরণ, সম কাজে সম বেতন সহ একাধিক দাবিতে গত ৬ আগস্ট থেকে ধর্মঘটে নামে হরিয়ানার সাফাই কর্মীরা। রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৩ হাজার কর্মীর এই ধর্মঘটে ভেঙে পড়েছে হরিয়ানার সাফাই সংক্রান্ত কাজ। কর্মীদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার ধর্মঘট ভাঙার চেষ্টা কর হয়েছে। একাধিকবার প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন কর্মীরা। তবুও ধর্মঘট ভাঙা সম্ভব হয়নি।

ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধর্মঘটী শ্রমিকদের সঙ্গে ছ’দফা বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে হরিয়ানা সরকার। রাজ্যের সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রী কৃষ্ণ বেদী এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বিপুল গোয়েল এই আলোচনা চালাচ্ছেন। গত মঙ্গলবারই সাফাই কর্মীদের ধর্মঘট নিয়ে হরিয়ানা বিধানসভায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আলোচনার দাবি জানানো হয়। হরিয়ানার কংগ্রেস বিধায়ক ও দলিত নেত্রী গীতা ভুক্কাল বিধানসভায় অভিযোগ করেন যে পুলিশ ধর্মঘটী মহিলাদের চুল টেনে ধরে পুলিশ ভ্যানে তুলছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয় এবং বলা হয় কংগ্রেস পেছন থেকে এই আন্দোলনে উস্কানি দিচ্ছে।

হরিয়ানা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ধর্মঘটী শ্রমিকদের ১৩ দফা দাবির মধ্যে ১২ দফা দাবি ইতিমধ্যেই মেনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা ১৩ তম দাবির পক্ষে এখনও অনড়। তিনি আরও বলেন, সাফাই কর্মচারীদের মাসিক বেতন ১৯ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর পাল্টা ধর্মঘটী কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল দাবি স্থায়ীকরণের। এই দাবি না মানা হলে তাঁরা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

এর আগে গত মে মাসেও আন্দোলনের পথে গিয়েছিলেন সাফাই কর্মচারীরা। সেবার সরকারের মৌখিক আশ্বাসে তাঁরা কাজে ফিরলেও সরকার কথা রাখেনি বলেই ধর্মঘটী কর্মীদের অভিযোগ। সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হবার কারণে তাঁরা ধর্মঘটে নেমেছেন।

ইউনিয়নগুলোর প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে চুক্তিভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা ও দমকল কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণ, আউটসোর্সিং ব্যবস্থার বিলোপ এবং ১৩ই মে-র চুক্তির লিখিত বাস্তবায়ন। এছাড়াও তারা ন্যূনতম মজুরি, ঝুঁকি ভাতা, ইএসআই ও ইপিএফ সুবিধা, সহানুভূতিমূলক নিয়োগ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ এবং ছাঁটাইকৃত কর্মীদের পুনর্বহাল দাবি করছে।

হরিয়ানায় আন্দোলনরত সাফাই কর্মীদের মিছিল
Gauri Lankesh: গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকান্ডের ন'বছর - বিচার এখনও অধরাই
হরিয়ানায় আন্দোলনরত সাফাই কর্মীদের মিছিল
জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট; প্রাক্তন আমলাকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ দিল্লি পুলিশের

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in